সেনা সরানোর কথা বলেও কাজে কলমে তা করছে না চিন। লাদাখ সীমান্তের একাধিক বিতর্কিত স্থানে এখনও লাল ফৌজের অস্তিত্ব বর্তমান। এমনটাই অভিযোগ করছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছেন, এখনও চুক্তি পূরণ করেনি চিন। লাদাখ সীমান্তের বেশ কয়েকটি জায়গায় রয়ে গিয়েছে পর্যাপ্ত লালফৌজ। চুক্তি অনুযায়ী তা হওয়ার কথা ছিল না। ভারত কথা রাখলেও বেজিং কিন্তু কথার খেলাপ করছে।

কয়েকদিন আগেই চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন দাবি করেছেন, চুক্তি মত অধিকাংশ জায়গা থেকেই সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনও ভাবেই স্ট্র্যাটেজি বদল করার কথা ভাবছে না চিন। এই নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বেজিং। দু’দেশের মধ্য়ে পঞ্চম দফার কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের মুখে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডং  বলেন, ”অধিকাংশ এলাকা থেকেই দু’দেশের সেনা সরেছে”। সীমান্তে শান্তি ফেরাতে চিন যে অঙ্গীকারবদ্ধ, সেকথাও বলেছেন সান ওয়েডং।

আরও পড়ুন:নয়া রেকর্ড গড়ে দৈনিক আক্রান্ত ৫৫ হাজার ছাড়াল, দেশে মোট সংক্রমণ ১৬ লক্ষের গণ্ডি পেরোল

তবে চিনের তরফে এই বিবৃতি আসার পরেই বেজিংকে ভুল শুধরে দেয় দিল্লি। উপগ্রহ চিত্রের সঙ্গে চিনের দাবি মিলছিল না। সেই গড়মিলের দিকে লক্ষ্য রেখেই বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিল, ”পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ সেনা সরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি”।

ভারতের তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, দু দেশেই পূর্ব লাদাখের সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সেখান থেকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহারর এখনও হয়নি। ভারতের এই বিবৃতির পর চিনের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: করোনা থেকে সুস্থ হয়েও মিলছে না নিস্তার, ৭৮ শতাংশ রোগীর বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

উল্লেখ্য়, মে মাসের শুরু থেকে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এলাকায় ভারত-চিন সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সীমান্তে একেবারে চোখে চোখ রেখে অবস্থান করে দু’দেশের সেনা। গত ১৫ জুন দু’দেশের সেনার মধ্য়ে সংঘর্ষও বাধে। এরপর সীমান্ত সমস্য়া মেটাতে একাধিকবার বৈঠকে বসে দু’দেশ। তারপরই সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।