সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই পার্লামেন্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই খবরের পরেই দিল্লির যন্তর মন্তরের বাইরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, এই মিছিলের জন্য এখনও কোনও অনুমতি চায়নি দলটি।

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) সোমবার পার্লামেন্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে। এই খবর পেয়েই রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরের বাইরে প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে প্রশাসন। পুলিশ কর্মীরা বিক্ষোভস্থলের চারপাশে কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন।

সংসদ অভিযানের অনুমতি নেই!

ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার, অর্থাৎ বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তারা পার্লামেন্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে। তবে, সংবাদসংস্থা এএনআই-কে সূত্র মারফত জানানো হয়েছে যে, এই মিছিলের জন্য সংগঠনটি এখনও দিল্লি পুলিশের কাছে কোনও সরকারি অনুমতির আবেদন করেনি। অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক এই মিছিলের ঘোষণা করেছিলেন, যাঁকে শনিবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তাছাড়া, দলটি এখন আবেদন করলেও অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে এমনিতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব কঠোর থাকে।

কড়া নিরাপত্তা সংসদ চত্ত্বরে

উল্লেখ্য, যখন সংসদের অধিবেশন চলে, তখন দিল্লি পুলিশ নিউ দিল্লি জেলায়, বিশেষ করে সংসদ ভবন এবং ইন্ডিয়া গেটের আশেপাশে, বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রাখে। এই আদেশের ফলে চার বা তার বেশি লোকের জমায়েত, অনুমতি ছাড়া মিছিল এবং অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ থাকে। সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ায়, সাংসদদের যাতায়াত মসৃণ রাখতে এবং কোনও রকম বিক্ষোভ এড়াতে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

সংসদে আজ থেকে বাদল অধিবেশন শুরু

২০২৬ সালের সংসদের বাদল অধিবেশন ২০ জুলাই শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই চার সপ্তাহের অধিবেশনের জন্য সরকারের সুপারিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন। সাধারণত, অনুমতি ছাড়া সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে ছাত্র সংগঠন বা রাজনৈতিক কর্মীদের পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে আটক করে বা ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক

এদিকে, এই প্রস্তাবিত মিছিল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁকে কেন হাসপাতালে সরানো হলো, সেই বিষয়ে নিউ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) জানিয়েছেন যে, আদালতের নির্দেশে রোজকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল টিম সকালে যন্তর মন্তরে গিয়েছিল। পুলিশের মতে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী বাধা সৃষ্টি করেন, যার ফলে সেখানে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়।

নিউ দিল্লির ডিসিপি এক্স হ্যান্ডেলে (আগের টুইটার) পোস্ট করে জানান, "শ্রী ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।"