ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাফাইয়ে একেবারেই খুশি নয় সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য কমিশনের এই জবাবকে 'অপরাধের স্বীকারোক্তি' বলে কটাক্ষ করেছেন।

সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য রবিবার নির্বাচন কমিশনের সাফাইকে 'অপরাধের স্বীকারোক্তি' বলে কটাক্ষ করেছেন। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ সংশোধনীর সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।

কমিশনকে নিশানা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্ট থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন আপত্তি তুলেছিলেন। কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অভিযোগ করেন, তাঁদের না জানিয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা একেবারেই খুশি নই। এটা তো একটা স্বীকারোক্তি... নিজেদের দোষ মেনে নেওয়া। অপরাধ স্বীকার করার পর ওই পদে থাকার কোনও অধিকারই তাঁদের নেই।" এই ইস্যুতে বিরোধীরা একজোট হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের একটি বৈঠক হবে। তাঁর কথায়, "৩০ তারিখ বৈঠকটা হবে। অগাস্ট মাসেই এটা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেরি হয়ে গেল। এই বৈঠকে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হবে। আমার মনে হয়, শুধু ইন্ডিয়া জোট নয়, জোটের বাইরের ছোট ছোট রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশজুড়ে একটা বড় আন্দোলন গড়ে তুলব।"

এই বিতর্কের মাঝেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে বাম নেতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে ভট্টাচার্য বলেছিলেন, "দেশের এমন একটা বড় সংকটের সময়, সামনের রাস্তা খুঁজতে আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করব।"

কমিশনের প্রতিক্রিয়া

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি ডেপুটেশনে থাকা এক অফিসারের কাজ নিয়ে ছিল। এর সঙ্গে কমিশনের কোনও নীতিগত বিষয়ের সম্পর্ক নেই। একটি প্রেস নোটে কমিশন জানায়, ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর সূচি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা হয়েছিল। আর ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সূচি ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি হয়। কমিশনের সবার সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কমিশন আরও জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য এসআইআর-এর যে নির্দেশিকা জারি হয়, সেটাও সবার সম্মতিতেই হয়েছিল। বিহার দিয়ে এই কাজ শুরু হয়, এরপর পশ্চিমবঙ্গ এবং আরও ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা কার্যকর হয়।

কমিশনের বক্তব্য, "সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে এসআইআর সহ একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য এসআইআর-এর নির্দেশিকা সবার সম্মতিতেই জারি হয়। ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও এই নির্দেশ বহাল রাখে। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ২০২৬ সালের ১৪ মে সবার সম্মতিতেই সূচি জারি হয়। তৃতীয় দফার বাকি ১২টি রাজ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই মোট ভোটারের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।"

কমিশন আরও স্পষ্ট করে, "ক্যাবিনেট সচিবকে দেওয়া চিঠিটি কমিশনের কোনও নীতিগত বিষয় বা আইটি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এটি কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক অফিসারের কাজ সংক্রান্ত ছিল। দুই কমিশনারের নির্দেশের পর ওই অফিসারের জারি করা কাজ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশিকা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। আর আইটি বিভাগের ওপর ডিইসি-র নজরদারিও কখনও তুলে নেওয়া হয়নি।"

কমিশন জানিয়েছে, চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের তথ্যে গরমিল রয়েছে বা আনম্যাপড অবস্থায় আছেন এবং নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের বাড়ি গিয়ে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) নথি সংগ্রহ করবেন। কমিশনের কথায়, "বিশেষ পরিস্থিতিতে ইআরও-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুনানি অনলাইনেই হবে।" দরকার হলে কোনও ভোটার তাঁর পরিবারের যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য পাঠাতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর-এর জন্য ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। এসআইআর ছাড়া অন্য সময়ে 'রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০' অনুযায়ী প্রযোজ্য ফর্মগুলোই ব্যবহার করা হবে।