দিল্লির পালাম গ্রাম থেকে ১৯ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করল ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অংশু নামের ওই তরুণের কাছ থেকে দেশি পিস্তল, কার্তুজ ও এয়ারগান উদ্ধার হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ পালাম গ্রাম থেকে ১৯ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ তার কাছ থেকে দুটি দেশি পিস্তল, দুটি তাজা কার্তুজ এবং একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম অংশু। তার বাবার নাম সত্য নারায়ণ। সে দিল্লির পালাম কলোনির বাসিন্দা। গোপন ও নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডব্লিউআর-২ (WR-II) দল তাকে ধরে ফেলে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুলিশ নিয়ম মেনেই উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করেছে।

পুলিশ গত ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় অস্ত্র আইনের ২৫ নম্বর ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে।

কীভাবে চলল অভিযান?

বেআইনি অস্ত্রের কারবারি এবং শুটারদের ধরতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বেশ কিছুদিন ধরেই ম্যানুয়াল ও টেকনিক্যাল নজরদারি চালাচ্ছিল। সাব-ইন্সপেক্টর কুলদীপ সিং এই অভিযানের সময় অভিযুক্তের বিষয়ে খবর পান। পরে সাব-ইন্সপেক্টর রবি ভূষণ প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই খবরের সত্যতা যাচাই করেন।

পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজ পেতে এবং তাকে ধরতে প্রায় এক মাস ধরে টানা চেষ্টা চালিয়েছে।

পুলিশ নজরদারি চালানোর সময় জানতে পারে, অংশু পালাম গ্রাম এলাকায় লুকিয়ে আছে। এরপরই তাকে ধরতে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

ইন্সপেক্টর গৌতম মালিকের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন এসআই কুলদীপ, হেড কনস্টেবল ভাওয়ার এবং কনস্টেবল মুকেশ। পুরো অভিযানটি এসিপি (ডব্লিউআর-২) রাজ পাল ডাবাসের তত্ত্বাবধানে এবং ডিসিপি (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) হর্ষ ইন্দোরার নির্দেশনায় পরিচালিত হয়।

পুলিশ গোপন খবরের ভিত্তিতে পালাম গ্রাম থেকে অংশুকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে বেআইনি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।

জেরা ও উদ্দেশ্য

পুলিশ তদন্তের সময় অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ঘেঁটে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তার বেশ কিছু ছবি পায়।

অংশু ওই ছবিগুলো হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে দিয়ে নিজের দাপট দেখানোর চেষ্টা করত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অংশু জেরায় জানিয়েছে, সে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পড়াশোনায় মন না থাকায় সে স্কুল ছেড়ে দেয়। সে পুলিশকে আরও জানায়, ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অপরাধ জগতের লোকেদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে সে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

এলাকায় নিজের দাপট দেখাতে, অন্যদের ভয় দেখাতে এবং সঙ্গীদের মধ্যে নিজের প্রভাব জাহির করতেই সে এই বেআইনি অস্ত্রগুলো জোগাড় করেছিল।

তদন্ত চলছে

অংশু জেরায় যা যা দাবি করেছে, পুলিশ এখন সেগুলো যাচাই করে দেখছে। তার পুরনো রেকর্ড, অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথা থেকে সে অস্ত্র পেল—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, এই অভিযান তাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারির বড় সাফল্য। ঠিক সময়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার হওয়ায় বড় কোনো অপরাধের ছক বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। (এএনআই)