এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। অভিযোগ, এই চক্রটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ডেট পেরিয়ে যাওয়া খাবারের প্যাকেটে মেয়াদ শেষের তারিখ বদলে ফেলত।

দিল্লিতে এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। অভিযোগ, এই চক্রটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ডেট পেরিয়ে যাওয়া খাবারের প্যাকেটে মেয়াদ শেষের তারিখ বদলে ফেলত। তারপর নতুন করে প্যাকিং করে সেই খাবার দেশ-বিদেশের বাজারে বিক্রি করত। পুলিশ ২০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের এই ধরনের জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থানার একটি দল এই অভিযান চালায়। এসিপি অনিল শর্মার নেতৃত্বে এই অপারেশনে বাদরপুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM), ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) এবং 'মিশন মুক্তি' নামে একটি এনজিও-ও সামিল ছিল। ওখলা ফেজ-২ এলাকার 'মেসার্স ওয়েস্টেন্ড কর্পোরেশন প্রাইভেট লিমিটেড' নামে একটি সংস্থার চত্বরে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে ওই সংস্থায় শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে বলে তাদের কাছে খবর আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তল্লাশি শুরু হয়। তবে তল্লাশির সময় কোনও নাবালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার বদলে পুলিশ একটি সংগঠিত চক্রের খোঁজ পায়, যারা খাবারের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ বদলানোর কাজ করত।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সস্তায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ডেট পেরিয়ে যাওয়া বা মেয়াদ শেষের কাছাকাছি থাকা খাবার কিনে নিত। এরপর রাসায়নিক থিনার ব্যবহার করে প্যাকেটের গা থেকে আসল উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ মুছে ফেলত। তারপর ওই চত্বরেই রাখা বিশেষ প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে নকল তারিখ ছাপিয়ে দিত। শুধু তাই নয়, খাবারের পুষ্টিগুণের তথ্য, নকল ব্যাচ নম্বর, বারকোড এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) স্টিকারও বদলে দেওয়া হত। এরপর নতুন করে প্যাকিং করে সেই পণ্যগুলি ভারত এবং বিদেশের বিভিন্ন বাজার ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরবরাহ করা হত।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে থামস আপ, ফ্যান্টা, বোর্নভিটা, হরলিক্স, ঘি, ম্যাগি নুডলস, দু'লিটারের সফট ড্রিংকের বোতল, বেভারেজ ক্যান এবং পেপার বোট জুসের মতো জনপ্রিয় জিনিস। পুলিশ কোম্পানির মালিক দর্শন সিং সচদেবাকে চিহ্নিত করেছে।

তাঁকে ছাড়াও আরও ছয়জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হল ম্যানেজার নীতেশ ভরদ্বাজ, অ্যাকাউন্ট্যান্ট নরেন্দ্র কুমার, অপারেটর কপিল, গুদামের রক্ষক লাকি ওঝা এবং সুপারভাইজার প্রেম যাদব ও পবন কুমার যাদব।

পুলিশের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রিন্টিং, সিলিং এবং তারিখ বদলানোর যন্ত্রপাতি উদ্ধার হওয়ায় এটা স্পষ্ট যে, জায়গাটি একটি পুরোদস্তুর অবৈধ ভেজাল এবং রিপ্যাকেজিং ইউনিট হিসেবে কাজ করত।

ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য এবং ক্রেতা সুরক্ষার জন্য ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। (এএনআই)