বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছয় দিনের সরকারি সফরে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গ যাচ্ছেন (৪-১০ জানুয়ারি)। এই সফরে তিনি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। সফরের লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করা

বিদেশমন্ত্রী (EAM) এস জয়শঙ্কর ছয় দিনের সরকারি সফরে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গে যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি উভয় দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করবেন। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) জারি করা একটি বিবৃতি অনুসারে, এই সফর ৪ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

ফ্রান্সে কর্মসূচি

ফ্রান্স সফরের সময় জয়শঙ্কর ফরাসি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন এবং বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে কথা বলবেন। আলোচনায় ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্যারিসে থাকাকালীন, বিদেশমন্ত্রী ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনের ৩১তম সংস্করণে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "প্যারিসে তিনি ফরাসি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন এবং বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের অধীনে হওয়া অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বিদেশমন্ত্রী ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনের ৩১তম সংস্করণে সম্মানিত অতিথি হিসেবেও ভাষণ দেবেন।"

ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্ব

বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একটি গভীর ও স্থায়ী কৌশলগত অংশীদারিত্ব (SP) ভাগ করে নেয়, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সমস্ত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর একটি কৌশলগত উপাদানও রয়েছে। ২৬ জানুয়ারী ১৯৯৮-এ চালু হওয়া ভারতের প্রথম কৌশলগত অংশীদারিত্বটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করে নিজ নিজ কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্য উভয় দেশের মূল দৃষ্টিভঙ্গিকে মূর্ত করে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, অসামরিক পারমাণবিক বিষয় এবং মহাকাশ এই কৌশলগত সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ এবং এখন এতে একটি শক্তিশালী ইন্দো-প্যাসিফিক উপাদানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, এই অংশীদারিত্ব সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত কম্পিউটিং, সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তন, পুনর্নবীকরণযোগ্য এবং টেকসই বৃদ্ধি ও উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিতে প্রসারিত হয়েছে।

লুক্সেমবার্গ সফর

ফ্রান্সে তার কর্মসূচির পর, জয়শঙ্কর লুক্সেমবার্গে যাবেন, যেখানে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের পাশাপাশি দেশের বরিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তার আলোচনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপর কেন্দ্র করে হবে। লুক্সেমবার্গে থাকাকালীন, বিদেশমন্ত্রীর ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

ভারত-লুক্সেমবার্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও লুক্সেমবার্গের মধ্যে উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক স্তরে উচ্চ মাত্রার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার দ্বারা চিহ্নিত। ভারত ও লুক্সেমবার্গের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লুক্সেমবার্গ ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে তাদের দূতাবাস খোলে, যা এশিয়ায় তাদের পাঁচটি দূতাবাসের মধ্যে একটি। মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা এবং বেঙ্গালুরুতেও লুক্সেমবার্গের অনারারি কনসাল রয়েছে।