মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে CBI তদন্ত! আরও একগুচ্ছ আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেল ED
ED_ কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল ইডি। তাদের অভিযোগ, তল্লাশির সময় নথি ও ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ED
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাদের আইনসম্মত তল্লাশি অভিযানে "গুরুতর এবং নজিরবিহীন বাধা" দেওয়ার অভিযোগে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। ইডি-র অভিযোগ, কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা জোর করে তল্লাশির জায়গায় ঢুকে পড়েন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস ছিনিয়ে নেন এবং ইডি আধিকারিকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখেন।
ED-র দাবি
সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দায়ের করা রিট পিটিশনে ইডি সিবিআই-কে এফআইআর নথিভুক্ত করার এবং ৮ জানুয়ারী, ২০২৬-এর ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়ার প্রার্থনা করেছে। ওই দিন ইডি-র আধিকারিকরা প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী কলকাতার প্রতীক জৈনের বাসভবনে এবং ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের (I-PAC) অফিস চত্বরে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন।
এজেন্সি আরও দাবি করেছে, রাজ্য কর্তৃপক্ষ যেসমস্ত নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে গেছে সেগুলি উদ্ধার করে অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত, সিল, ফরেনসিক সংরক্ষণ করা হোক। পাশাপাশি, পিএমএলএ কার্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হস্তক্ষেপের উপর নিষেধাজ্ঞার আদেশও চাওয়া হয়েছে।
ED-র দাবি
ইডি-র মতে, তাদের আধিকারিকরা ২,৭৪২ কোটি টাকারও বেশি অপরাধমূলক আয়ের সঙ্গে জড়িত একটি বহু-রাজ্যব্যাপী কয়লা পাচার এবং অর্থ পাচারের তদন্তের জন্য আইনসম্মতভাবে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ মহানির্দেশক, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে চত্বরে "জোর করে ঢুকে পড়েন, আধিকারিকদের ভয় দেখান, তাদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখেন এবং ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও নথি সহ বাজেয়াপ্ত জিনিসপত্র জোর করে সরিয়ে নিয়ে যান।"
পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই কাজগুলি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া, প্রমাণ নষ্ট এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের সামিল।
ED আধিকারিকদের সুরক্ষার দাবি
ইডি আরও অভিযোগ করেছে যে, তল্লাশির ঠিক পরেই রাজ্য প্রশাসন ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক "বিদ্বেষমূলক এবং প্রতিহিংসামূলক এফআইআর" দায়ের করেছে। তাদের দাবি, এর লক্ষ্য ছিল তদন্তকারীদের অপরাধমূলকভাবে ভয় দেখানো এবং তদন্তকে লাইনচ্যুত করা।
পিএমএলএ-র ৬৭ নম্বর ধারার অধীনে বিধিবদ্ধ সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে, ইডি এই ধরনের সমস্ত এফআইআর সিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করার এবং তাদের আধিকারিকদের দমনমূলক পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে।
আবেদনে কলকাতা হাইকোর্টের অশান্তির কথা
সাংবিধানিক সিস্টেম ভেঙে পড়ার কথা তুলে ধরে ইডি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে, কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসের ভিতরে একটি পরিকল্পিত হট্টগোলের পর তাদের প্রতিকার চাওয়ার প্রচেষ্টা "অবাস্তব" হয়ে ওঠে। এই হট্টগোলের কারণে বিচারপতি শুনানির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই বলে উল্লেখ করে মামলা মুলতবি করতে বাধ্য হন। এজেন্সি অভিযোগ করেছে যে, বিচারবিভাগীয় তদন্ত আটকাতে শাসক দলের সমর্থকরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই গোলমাল সংগঠিত করেছিল।
আইনের শাসনের উপর সরাসরি আক্রমণ:ED
এই ঘটনাকে আইনের শাসনের উপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করে, ইডি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু তদন্ত রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের হস্তক্ষেপে অনুমতি দিলে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

