দেশে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। এই অবস্থায় রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় স্থান ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওড়িশা সরকার। সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখতে এবার জগন্নাথের স্নানযাত্রাতেও ভক্তদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি মন্দির প্রাঙ্গনে। কিন্তু আগামী ২৩ জুন রথযাত্রা। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা তাদের মাসির বাড়ি যাবেন। আর সেইদিন তিন দেবদেবীর রথটানতে শ্রীক্ষেত্র প্রতিবছরই যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তার তার মাঝেই ভক্তরা হৈ হৈ রবে ৩টি রথ বয়ে নিয়ে যায় পুরীর রাজপথ দিয়ে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একাবের আলাদা। করোনার কারণে জনসমাগম একেবারেই নিষিদ্ধি। করোনা সংক্রমণ রুখতে পুরীতে এবছরের রথযাত্রায় বন্ধ থাকবে মানুষের সমাবেশ। তাই এবার রথা টানবে কে, সেই চিন্তায় এখন প্রশাসনের কপালে লম্বা ভাজ ফেলেছে। এর সমাধানও অবশ্য বাড় করেছে ওড়িশা সরকার। প্রীতন প্রথা মেনে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ হাতি দিয়ে টানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে গোটা দেশেই। বাদ পড়েনি শ্রীক্ষেত্রও। আর এই পরিস্থিতিতে অসংখ্য ভক্ত সমাগমের কথআ ভেবে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে রথযাত্রায়। কিন্তু ভক্তদের রথের রশি টানার রীতির কী হবে? সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে রথের রশি টানাও কঠিন হয়ে পড়বে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসন। তাই এবার পুরীর জগন্নাথের সুবিশাল রথ টানবে হাতিতে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

রথযাত্রা নিয়ে ওড়িশা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। হাইকোর্টে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী দিলীপ কুমার রায়। ওই আবেদনে আগামী ২৩ জুন রথযাত্রা উপলক্ষে রথ টানার জন্য মানুষের বদলে যন্ত্র অথবা হাতি ব্যবহারের আর্জি জানানো হয়। প্রতি বছর রীতি মেনে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির থেকে গ্র্যান্ড রোড ধরে আড়াই কিমি দূরে গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় জগন্নাথদেব, বলভদ্রদেব ও সুভদ্রাদেবীর কাঠের রথ। এত বড়ো রথ টেনে নিয়ে চলে অগণিত ভক্তের দল।

সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে করোনা সংক্রমণের, চাঞ্চল্যকর দাবি এবার চেন্নাইয়ের বিজ্ঞানীর

করোনায় মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে ৯ নম্বরে ভারত, তবে আশা জাগিয়ে দেশে সুস্থতার হার বেড়ে হল ৫১ শতাংশ

করোন নিয়ে আরও আশঙ্কার কথা শোনালেন গবেষকরা, ভারতে নভেম্বরে সবচেয়ে তীব্র হবে সংক্রমণ

রবিবার ওড়িশা হাইকোর্টের রায়ে প্রধান বিচারপতি মহম্মদ রফিক এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ মোহান্তির বেঞ্চ জানান, ‘মানুষের বদলে ভারী যন্ত্র অথবা হাতির যে কোনোটার ক্ষেত্রেই অনেক মানুষের প্রয়োজন পড়বে। এই কথা মাথায় রেখে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিয়মাবলী মেনেই ২৩ তারিখ রথযাত্রা আয়োজন করতে হবে রাজ্য সরকারকে।’

১৩.০০০ কিউবিক কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে পুরীর জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথ। তার উপরে পরে কাপড়ের আস্তরণ। এছাড়া মূর্তির ভার তো রয়েইছে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগমে সেই রথ অনায়াসেই পুরীর মন্দির থেকে ২.৫ কিলোমিটার দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরে  পৌঁছে যায়। আবার ৮ দিন পর  গুণ্ডিচা মন্দির থেকে পুরীর মন্দিরে ফিরে আসে। কিন্তু এবার আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই বিশাল ভারী রথের রশি এবার টানবে হাতি অথবা ক্রেন। মানুষের রথ না টানার ফলে রাস্তায় বহু মানুষের উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনভাইরাসের কারণে ভিড় এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তবে শোনা যাচ্ছে রথ টানার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ওডিশা সরকারই। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই এই বছর রথযাত্রার সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আদৌ ২৩ জুন রথযাত্রা হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্তও ওডিশা সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন ওডিশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহম্মদ রফিক এবং বিচারপতি বিশ্বজিত্‍ মোহান্তির ডিভিশন বেঞ্চ। এদিকে ভক্তরা সশরীরে উপস্থিতি থাকতে না পারলেও যাতে সকলে রথযাত্রার স্বাদ নিতে পারেন তার জন্য ওড়িশা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে রথযাত্রার লাইভ সম্প্রচার করা হবে।