Asianet News BanglaAsianet News Bangla

বিল নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের তর্জা, দেশের কৃষি ব্যবস্থা কি এবার কর্পোরেটদের হাতে

  • কৃষি বিলের বিরোধিতা দেশ জুড়ে
  • পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল বিরোধী শিবির
  • বাম এবং কংগ্রেসের নানা সংগঠন আন্দোলন করছে
  • রাজ্য জুড়ে পাল্টা প্রচারে নামার কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপি
Farm Bills A Corporate Feast In The Garb Of Reform
Author
Kolkata, First Published Sep 24, 2020, 8:41 AM IST

কৃষি বিলের বিরোধিতায় পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী বাম এবং কংগ্রেস। বাম এবং কংগ্রেসের নানা সংগঠন ইতিমধ্যেই কৃষি সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশকে সংসদীয় রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে বিলে পরিণত করার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে। অন্যদিকে  কৃষি বিল নিয়ে বিরোধীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করে রাজ্য জুড়ে পাল্টা প্রচারে নামার কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপি। 

কৃষিকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়ার নীতির প্রতিবাদে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ কিষাণ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি ভারত বন্‌ধ এবং দেশ জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সিটু,  আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি-সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি ওই প্রতিবাদকে সমর্থন করছে। আলিমুদ্দিনে বামফ্রন্ট এবং সহযোগী ১৬টি দল বৈঠক করে ঠিক করেছে, তারাও কৃষক বিক্ষোভের সঙ্গে থাকবে। বিভিন্ন অংশের মানুষ ও সংগঠনকে নিয়ে ২৫ তারিখ ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত যে মিছিলের ডাক দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি, পিছনে থেকেই তার সঙ্গে বাম নেতৃত্ব পা মেলাবেন বলে জানিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। 

কেন্দ্র সরকার কৃষি বিলগুলি প্রস্তাবিত করার পর উত্তাল সংসদ, কৃষকরা দেশজুড়ে আন্দোলন করে দিয়েছে এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু কৃষি বিলের স্বপক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য, এই বিলগুলি ঐতিহাসিক৷ দেশের কৃষি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য এই বিলগুলি অত্যন্ত জরুরি। বিরোধীরা ভয় পাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যাবে বলে। তাই কৃষকদের বিভ্রান্ত করে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে৷ 

তবে চাষিরা জানাচ্ছেন, এই তিনটি বিলের ফলে দেশের কৃষিব্যবস্থা কর্পোরেটদের কুক্ষীগত হয়ে যাবে। আর্থিক ভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে চাষিরা। অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির জাতীয় আহ্বায়ক ভিএম সিংয়ের বক্তব্য, তারা দেশজুড়ে সব কৃষককে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। যদিও সরকার দাবি করছে, এই বিলগুলির জন্য কৃষকরা খুশি, কিন্তু আসলে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভয়, এখন যাও বা একটু নূন্যতম সহায়ক মূল্য তারা পাচ্ছেন, এ বার তাও জুটবে না। দেশের গোটা কৃষি ব্যবস্থাটাই কর্পোরেটদের হাতে চলে যাবে।  

তাই চাষিরা এই কৃষি বিলগুলির প্রতিবাদে সরব। অর্ডিন্যান্স রুখতে দেশজুড়ে একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন একাধিক কৃষক সংগঠন। ১৪ সেপ্টেম্বরে সংসদে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে শুরু হওয়া আন্দোলন জারি রয়েছে। করোনাভাইরাসের অতিমারির আবহে তাঁরা  ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আন্দোলন করছেন।

অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির জাতীয় আহ্বায়ক ভিএম সিং জানান,  কন্ট্র্যাক্ট ফার্মিংয়ের মডেলে ইতিমধ্যেই আখ চাষ শুরু করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। কিছু রাজ্যের আখচাষি এই পদ্ধতি মেনে নিয়ে বিপদে পড়েছেন। কোটি কোটি টাকা দিয়ে বসে আছে। কেউ তাদের বকেয়া মেটানোর বিষয়ে চিন্তাই করছে না। তারা চরম বিপদে রয়েছে।

মোদি সরকারের কৃষি বিলের সমালোচনা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরাও। আইসিআরআইইআর-এর অধ্যাপক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব সিরাজ হুসেন বলছেন, গুজরাতে পেপসিকো কৃষকদের সঙ্গে কী করেছে, তা এই বিলগুলির বিপদের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তাঁর কথায়, বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করে। তারপর কৃষকদের বকেয়া মেটানো নিয়ে আর মাথা ঘামায় না। চাষিদেরও বড় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ক্ষমতা নেই।

যদিও সরকার ক্রমাগত বলে চলেছে কৃষি মণ্ডিকে আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক করার লক্ষ্য নিয়ে গত ৬ বছর আগে থেকেই কেন্দ্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার জন্য কম্পিউটারাইজেশন করা হয়েছে কৃষি মণ্ডিগুলোকে, কিন্তু বিশেষঙ্গদের মতে কৃষি ক্ষেত্রে নয়া সংস্কারে কৃষি মণ্ডিগুলি বিপদের মুখে পড়বে, তারা কৃষকদের মিথ্যে কথা বলছে৷ কৃষকদের হাত বাঁধা। সরকার বলছে কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নেয় কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ৷ তাই এই বিল আনা জরুরি ছিল।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios