অভিবাসী শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল হায়দরাবাদপ্রায় ২৭শ শ্রমিকের বিক্ষোভবকেয়া বেতন আর বাড়ি ফেরার দাবিপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ 

আবারও বিক্ষোভ দেখালেন অভিবাসী শ্রমিকরা। মুম্বইয়ের পর এবার তাঁদের বিক্ষোভে উত্তাল হল হায়দরাবাদ। বিহার ও মধ্যপ্রদেশের প্রায় ২৭০০ শ্রমিক লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছিলেন। স্থানীয় একটি নির্মান সংস্থার হয়ে তাঁরা কাজ করতেন। কিন্তু এদিন নির্মাণ সংস্থার কর্মীরা তাঁদের আবার কাজ শুরু করার কথা বলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকারা। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ তাঁদের তাঁরা বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাণ সংস্থার কর্মীরা তাতে রাজি হয়নি। উল্টে কাজ শুরু করার জন্য আটকে পড়া অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। তাতেই শ্রমিকরা মেজাজ হারিয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তেলাঙ্গনার হায়দরাবাদে আইআইটির কাছে নির্মাণ সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে অভিবাসী শ্রমিকদের হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ অভিবাসী শ্রমিকরা নির্মাণ সংস্থার কর্মীদের ব্যাপক মারধর করে। আইআইটি ক্যাম্পাসের কাছে এই ঘটনায় সরকারি সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। অভিবাসী শ্রমিকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি পুলিশও। গাড়িতে ভাঙচুর চালান হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

Scroll to load tweet…

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে আইআইটি ক্যাম্পাসে একটি বিল্ডিং তৈরি কাজে যুক্ত ছিলেন অভিবাসী শ্রমিকরা। লকডাউনের কারণে মার্চ ও এপ্রিল মাসে কোনও বেতন পাননি তাঁরা যদিও প্রধানমন্ত্রী ছোটবড় সব সংস্থাগুলিকেই কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তারপরেও এই অভিবাসী শ্রমিকরা কোনও টাকা পাননি। লকডাইনের পর আইআইটি ক্যাম্পাসেই তাঁরা থাকছিলেন। সরকার এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার থেকে সরবরাহ করা খাবারই দিন গুজরান হচ্ছিল। কিন্তু নির্মাণ সংস্থা বকেয়া টাকা না মিটিয়ে তাঁদের কাজ করার জন্য জোর করছিল বলে অভিযোগ। তাতেই তাঁরা রুদ্রমূর্তি ধারন করেন। 

আরও পড়ুনঃ হাইড্রোক্লোক্সিসকুইনিন নিয়ে কি এখনও গোঁসা ট্রাম্পের, মোদীকে আনফলো করল হোয়াইট হাউস ...

আরও পড়ুনঃআরোগ্য সেতু 'নিরাপদ' বললে তবেই অফিসে ঢোকা যাবে, না হলে হোম কোয়েরেন্টাইন, নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের ...

আরও পড়ুনঃ 'মৃত্যুর কারণ করোনা লেখা যাবে না', রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা তুলে মমতাকে আক্রমণ অধীরের ...

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন মহামারীর এই কঠিন সময় বাড়ি ফিরতে মরিয়া শ্রমিকরা । বাড়িতে টাকা পাঠাতে না পেরে ও যোগাযোগল বিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি আরও জানান হয়েছে তেলাঙ্গনা সরকার এই শ্রমিকদের মধ্যপ্রদেশ ও বিহারে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু উক্ত রাজ্যগুলি এই শ্রমিকদের এখনই ফিরিয়ে নিতে রাজি নয়। একটি সূত্র বলছে গোটা দেশ জুড়েই লকডাউন চলছে এই তাতে প্রায় ১০ কোটি অভিবাসী শ্রমিক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার পরিবার থেকে দূরে থেকে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের সাহায্যের জন্য ১.৭কোটি টাকার প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছে।