ভারতের রাজনীতিতে এমন অনেক দল আছে যাদের নাম বেশ অদ্ভুত, মজার এবং চমকে দেওয়ার মতো। কিছু দল জাতি বা সম্প্রদায়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি, আবার কিছু বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং গরিবদের সমস্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে "ককরোচ জনতা পার্টি" বা "ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট"-এর মতো ব্যঙ্গাত্মক দলও আলোচনায় এসেছে।

ভারতের রাজনীতিতে এমন সব দল আছে, যাদের নাম শুনলে আপনি চমকে যাবেন, হেসে ফেলবেন, বা ভাবতে বসবেন যে এমন নামও রাখা যায়! এর মধ্যে কিছু দল জাতিভিত্তিক, কিছু বিশেষ সম্প্রদায় বা ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি, আবার কিছু পুরোপুরি সোশ্যাল মিডিয়ার মস্করা থেকে জন্ম নিয়েছে। এখানে এমনই কিছু অদ্ভুত নামের রাজনৈতিক দল এবং তাদের গল্প দেওয়া হল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. NISHAD Party

পুরো নাম — নির্বল ইন্ডিয়ান শোষিত হামারা আম দল।

নামটা এতটাই লম্বা যে সবাই একে ছোট করে "নিষাদ পার্টি" বলেই ডাকে। এই দলটি উত্তরপ্রদেশে জেলে এবং নিষাদ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। দলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সঞ্জয় নিষাদ। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট করে দলটি বেশ আলোচনায় ছিল।

২. Vikassheel Insaan Party

ছোট করে — VIP।

এই দলের নাম শুনে অনেকে প্রথমবার কোনো লাক্সারি হোটেল বা ক্লাবের নাম ভেবে ভুল করেন। বিহারের নেতা মুকেশ সাহানি এই দলটি শুরু করেছিলেন। তিনি নিজেকে "সন অফ মাল্লাহ" (মাঝির ছেলে) বলেন। দলটির মূল ফোকাস অনগ্রসর এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উপর।

৩. Lok Janshakti Party

নামের মধ্যে "লোক", "জন" এবং "শক্তি"—সবই জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

রামবিলাস পাসোয়ানের এই দলটি বিহারের দলিত রাজনীতির একটি বড় মুখ ছিল। পরে অবশ্য দলটি LJP (রামবিলাস) এবং RLJP-এর মতো বিভিন্ন ভাগে ভেঙে যায়।

৪. Cockroach Janata Party

মানে "আরশোলা জনতা পার্টি"!

এটি কোনো আসল নির্বাচনী দল নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন। বেকারত্ব এবং সিস্টেমকে কটাক্ষ করে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এর ট্যাগলাইন ছিল — "Voice of the Lazy & Unemployed" অর্থাৎ "অলস আর বেকারদের কণ্ঠস্বর"। কয়েক দিনের মধ্যেই এর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার হয়ে যায়।

৫. National Parasitic Front

"ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট" অর্থাৎ "জাতীয় পরজীবী মোর্চা"।

এটিও একটি ইন্টারনেট স্যাটায়ার পার্টি। এর উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বক্তব্যের মজা ওড়ানো। দলটি নিজেদের "সিস্টেমের আসল শিকার"-দের আওয়াজ বলে দাবি করত।

৬. Akhil Bhartiya Berozgaar Party

নামের মানেই হল — "সারা ভারত বেকার পার্টি"।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত এমন অনেক ছোট দলের নাম বেশ অদ্ভুত। এই দলটি বেকারত্বের ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল।

৭. Akhil Bharatiya Bhrastachar Nirmoolan Sena

নামটা শুনলেই মনে হয় যেন কোনো দুর্নীতি বিরোধী মিশন চলছে।

এই দলটিও নির্বাচন কমিশনের ছোট নথিভুক্ত দলগুলোর তালিকায় ছিল।

৮. Akhil Bharatiya Gareeb Party

সোজাসাপ্টা নাম — "গরিব পার্টি"।

এই ধরনের দলগুলো প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তৈরি হয়, কিন্তু নির্বাচনে তাদের প্রভাব খুব সীমিত থাকে।

৯. Public Political Party

নামটা এতটাই সাধারণ যে প্রথমবার শুনলে মনে হয় কোনো স্কুলের প্রজেক্ট, আসল রাজনৈতিক দল নয়।

এই দলটিও নির্বাচন কমিশনের তালিকায় নথিভুক্ত ছিল।

১০. Bharatiya Nayi Soch Samanta Party

এই নামটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং Reddit-এ বেশ চর্চায় এসেছিল। দলটি নিজেদের যুবক এবং UPSC পরীক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে।

ভারতে এমন অদ্ভুত নাম রাখা হয় কেন?

  • ভারতে ২৫০০-র বেশি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর বেশিরভাগই ছোট বা আঞ্চলিক। অনেক দল:
  • জাতিগত পরিচয় তুলে ধরতে এমন নাম রাখে।
  • কোনো বিশেষ ইস্যু (দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি) নিয়ে তৈরি হয়।
  • মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অদ্ভুত নাম বেছে নেয়।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মিম এবং ব্যঙ্গ থেকেও তৈরি হচ্ছে।

এই দলগুলোর অনেককে হয়তো নির্বাচনে দেখাই যায় না, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তাদের নাম ঠিকই থাকে। ভারতের রাজনীতি শুধু বড় দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে এমন সব দলও আছে, যাদের নামই তাদের পুরো গল্পটা বলে দেয় — কেউ জাতির কথা বলে, কেউ বেকারদের, আবার কেউ সরাসরি "আরশোলা" হয়ে সিস্টেমের মজা ওড়ায়।