Greater Noida Bus Fire: বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন লাগে। নয়ডা থেকে মহোবাগামী বাসটিতে ৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

Greater Noida Bus Fire: বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ট্যুরিস্ট স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় একজন মহিলা সহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। যাত্রীদের বেশিরভাগই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোটা বাস ধোঁয়া আর আগুনে ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে মহোবার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বাসের ভিতরে ৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বাসের ভিতর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চারদিক ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় অনেকেই জানলা দিয়ে লাফিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন।

ভিডিওটি এখানে দেখুন: 

Scroll to load tweet…

ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। বিহারের নম্বর প্লেট থাকা ওই বাসটি আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

আগুন থেকে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী সেই ভয়ংকর মুহূর্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি ঘুমোচ্ছিলাম, হঠাৎ কেউ একজন দরজায় জোরে ধাক্কা দেয়।" ঘুম ভাঙতেই তিনি দেখেন বাসের ভেতর প্রবল হুড়োহুড়ি চলছে। নিজের জিনিসপত্র বা জুতো পরারও সময় পাননি তিনি। শুধু মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়েই বাস থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন।

ওই যাত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সবাই একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন। বাসের ভেতর তখন শুধুই কালো ধোঁয়া, শ্বাস নেওয়া বা কিছু দেখাও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষমেশ তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে আরেক যাত্রী জানান, আগুন লাগার খবর পেতেই সবাই বাস থেকে বেরোনোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। বাসে প্রচুর ভিড় ছিল, আর তার মধ্যেই ধোঁয়া আর আতঙ্কে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

খবর পেয়েই জেওয়ার থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের সবরকম সাহায্য করার পাশাপাশি আগুন লাগার আসল কারণ খুঁজছে প্রশাসন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের যাতে ঠিকমতো চিকিৎসা হয়, সেদিকে নজর রাখতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাতের বেলায় স্লিপার বা ডাবল-ডেকার ট্যুরিস্ট বাসে যাতায়াত কতটা নিরাপদ, এই ঘটনার পর সেই প্রশ্নটাই ফের বড় হয়ে দেখা দিল।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।