Hamirpur Horror: প্রেম করে বিয়ে, তার পর বিমার টাকা হাতাতে সেই স্ত্রীকে গাড়ির চাকায় পিষে নৃশংস ভাবে খুন! স্রেফ ৪৪ লক্ষ টাকার জীবনবিমার টাকা হাতানো আর ধারের দেনা মেটাতে এমন শিউরে ওঠা ছক কষেছিলেন উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরের বাসিন্দা অমর সিং।

Hamirpur Horror: প্রেম করে বিয়ে, তার পর বিমার টাকা হাতাতে সেই স্ত্রীকে গাড়ির চাকায় পিষে নৃশংস ভাবে খুন! স্রেফ ৪৪ লক্ষ টাকার জীবনবিমার টাকা হাতানো আর ধারের দেনা মেটাতে এমন শিউরে ওঠা ছক কষেছিলেন উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরের বাসিন্দা অমর সিং। কিন্তু খুনের পর পথদুর্ঘটনার মিথ্যা নাটক ফেঁদেও শেষ রক্ষা হলো না। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো চক্রান্ত ফাঁস করে অমর ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার মৌদাহা থানা এলাকার বমরৌলি গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি অমর সিং।

তৃতীয় বিয়েতে খুন

প্রায় আড়াই বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ৩২-৩৪ বছর বয়সি রীতাকে। রীতার সেটি দ্বিতীয় বিয়ে হলেও অমরের ছিল তৃতীয় বিয়ে। সম্প্রতি এক বন্ধুর ধারের টাকা মেটাতে এবং রাতারাতি ধনী হতে এক ভয়াবহ ছক কষে অমর। স্ত্রী রীতার নামে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকার একটি জীবনবিমা করানো হয়। প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি নিজের পকেট থেকেই মেটায় অমর। বিমার অর্থ হাতাতে সহযোগীদের সঙ্গে চুক্তি হয়। বিমার টাকা মিললে অমর পাবে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা, আর বাকি টাকা ভাগ করে নেবে তার সহযোগীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল

পরিকল্পনা মতোই গত ২৯ জুলাই রাতে লালপুরা থানা এলাকার পৌধিয়া গ্রামের কাছে একটি খাল সংলগ্ন নির্জন রাস্তায় স্ত্রীকে নানা বাহানায় ডেকে নিয়ে যায় অমর। আগে থেকেই সেখানে গাড়িতে ওত পেতে বসেছিল অমরের তিন সহযোগী, অমিত গুপ্ত ওরফে রাম, পুষ্পেন্দ্র সোনি ওরফে সাহিল এবং অভয় সিং ওরফে গোলু। রীতা রাস্তায় পৌঁছানো মাত্রই প্রচণ্ড গতিতে এসে গাড়িটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। রীতা ছিটকে পড়েন রাস্তার পাশের ড্রেনে। এতেই শান্ত হয়নি অভিযুক্তেরা। নিশ্চিত মৃত্যু ঘটাতে রীতাকে ড্রেন থেকে টেনে তুলে পুনরায় মূল রাস্তায় এনে শুইয়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁর গায়ের ওপর দিয়ে একাধিকবার চালিয়ে দেওয়া হয় ঘাতক গাড়িটি। শুধু তাই নয়, গাড়ির চাকায় পিষে দেওয়ার আগে তাঁকেই লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও উঠে এসেছে তদন্তে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দেহটি রাস্তায় ফেলে চম্পট দেয় চার অভিযুক্ত, যাতে পুরো ঘটনাটি একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনা বা 'হিট অ্যান্ড রান' বলে মনে হয়।

ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

পরদিন সকালে জমি থেকে ফেরার পথে স্থানীয় কৃষকেরা রীতার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান। পরে রীতার বাবা সর্বেশ কুমার গুপ্ত একটি খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে নজর ঘোরাতে অমর নিজেই থানায় গিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার একটি ভুয়ো ডায়েরি দায়ের করে।

তদন্তে কী উঠে আসে

তদন্তে নেমে মৃতদেহের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ব্যাঙ্ক স্লিপ এবং অমরের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হয় লালপুরা থানা ও স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG)-এর তদন্তকারীদের। অমরাকে জেরা করতেই একে একে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক সত্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, রীতার শরীরে ১২টিরও বেশি মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার ভার্মা জানান, "এটি স্রেফ বিমার টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী অমর সিং-সহ চারজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।"