CEEW-এর একটি সমীক্ষা বলছে, LPG কানেকশন থাকা সত্ত্বেও ভারতের গ্রামের দিকে এর ব্যবহার খুবই কম। মাত্র ৪৭% মানুষ বাড়িতে সিলিন্ডার পান, আর কেবল ২৩% পুরোপুরি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। চড়া দাম আর সময়মতো গ্যাস না পাওয়াই এর মূল কারণ।

কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (CEEW)-এর তিনটি সমীক্ষা বলছে, গ্রামের দিকে LPG কানেকশন থাকলেও তার ব্যবহার তেমন হচ্ছে না। আসল সমস্যা হল সিলিন্ডারের চড়া দাম আর বাড়ি পর্যন্ত গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার অব্যবস্থা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রামের মাত্র ৪৭ শতাংশ LPG ব্যবহারকারী বাড়িতে সিলিন্ডার ডেলিভারি পান। যদিও ৭৩ শতাংশ পরিবার গত ৯০ দিনে LPG ব্যবহার করেছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ পুরোপুরি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। প্রায় অর্ধেক পরিবার এখনও রান্নার জন্য মূলত কাঠের জ্বালানির উপরই ভরসা করে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সঠিক তথ্য না থাকা আর ডেলিভারি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় একটা বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। আর সেই সুযোগে গজিয়ে উঠেছে চোরাবাজার। স্থানীয় দোকান, রাস্তার বিক্রেতা বা বেআইনি ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনছেন অনেকে।

দুর্বল আর্থিক পরিস্থিতির মানুষের সমস্যা

পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা আরও খারাপ। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৯ শতাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের কাছেই বৈধ LPG কানেকশন নেই। ২০২১ সালে নিয়ম সহজ করা সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY)-র আওতায় নাম লিখিয়েছেন মাত্র ৪ শতাংশেরও কম।

শহরের গরিব এলাকাগুলিতে ৭০ শতাংশ মানুষ শুধু গ্যাস ব্যবহার করলেও, ৩১ শতাংশেরই বৈধ কানেকশন নেই। ঠিকানার প্রমাণপত্র না থাকায় তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে। এর ফলে ১১ শতাংশ মানুষ ৮০৩ টাকার সিলিন্ডার ১০৪০ টাকা দিয়ে চোরাবাজারে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

যেসব পরিযায়ী শ্রমিক খোলা জায়গায় থাকেন, তাদের ৭০ শতাংশই রান্নার জন্য পুরোপুরি কাঠ-কয়লার মতো জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। যারা চোরাবাজার থেকে গ্যাস কেনেন, তাদের প্রতি কেজিতে ৭১ টাকা দিতে হয়, যা সাধারণ দামের থেকে ২০ শতাংশেরও বেশি।

মূল বাধা সিলিন্ডারের দাম

CEEW জানিয়েছে, "পরিষ্কার বাতাসের সঙ্গে মানুষের রান্না, কাজ ও জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত। এই সমীক্ষাগুলো দেখাচ্ছে যে শুধু LPG কানেকশন দেওয়াই যথেষ্ট নয়। যদি পরিবারগুলো নিয়মিত রিফিল করাতে না পারে, পরিযায়ী শ্রমিকরা উজ্জ্বলা যোজনার ব্যাপারে না জানে, বা গ্রামের বাড়িতে ঠিকমতো সিলিন্ডার না পৌঁছায়, তাহলে মানুষ দূষণ ছড়ানো জ্বালানিই ব্যবহার করতে থাকবে।"

আরও জানা গিয়েছে, ভারতের দূষণমুক্ত পরিবেশের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে শুধু কানেকশন নয়, দেখতে হবে রান্নার গ্যাস সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে কি না। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যদি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪০০ টাকা হয়, তবে তারা পুরোপুরি LPG ব্যবহার শুরু করবেন। বেশিরভাগ মানুষ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি, যা বর্তমানে PMUY-এর ভর্তুকিযুক্ত দাম ৬৪২ টাকার চেয়ে অনেকটাই কম।

ব্যবহার বাড়াতে কী করণীয়?

CEEW-এর ফেলো এবং এই সমীক্ষার সহ-লেখক অভিষেক কর বলেন, "কানেকশনের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে এখন নিয়মিত ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। গ্রামের মানুষের জন্য রিফিলের দাম কমানো এবং বাড়িতে ডেলিভারি সবচেয়ে জরুরি। শহরের গরিবদের জন্য কাগজপত্রের নিয়ম সহজ করা ও ছোট ছোট কিস্তিতে টাকা দেওয়ার (মাইক্রো-পেমেন্ট) ব্যবস্থা দরকার। আর পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকি বাড়ানো ও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।"

কর আরও জানান, বেশিরভাগ পরিযায়ী শ্রমিক চোরাবাজার থেকে গ্যাস কেনেন। এর ফলে যারা পুরো সিলিন্ডার কিনতে পারেন, তাদের তুলনায় কেজি প্রতি ২০ শতাংশেরও বেশি প্রিমিয়াম দিতে হয় তাদের। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখেই রান্নার গ্যাস নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই সমস্যাগুলো মেটাতে CEEW কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। যেমন, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রককে PMUY সিলিন্ডারে ভর্তুকি প্রায় ২০০ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান, স্মার্ট-মিটার কিয়স্ক চালু করা এবং গ্রামে ডোরস্টেপ ডেলিভারি বাড়াতে ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য আলাদা কমিশন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।