করোনাভাইরাসের সংকট ভারত কাটিয়ে উঠতে পারবে। শুক্রবার আশা প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন জন এফ কেনেডি স্কুল অব গর্ভনমেন্টের অধ্যাপক নিকোলাস বার্নসের সঙ্গে। সেখানেই  মার্কিন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। 

এদিনের আলোচনায় রাহুল গান্ধী আবারও নিশানা করেন কেন্দ্রের মোদী সরকারকে। তিনি বলেন আমাদের দেশে একটা সরকার রয়েছে। কিন্তু সেই সরকার সব সিদ্ধান্ত একাই নেয়। সরকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কঠোর লকডাউনের। কিন্তু তার ফল কী হয়েছে তা সবাই নিজের চোখেই দেখেছে। দেশের হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছে। দেশের নেতৃত্বের কাছে এই পর্বটি ছিল খারাপ। 

গোষ্ঠী সংক্রমণ উড়িয়ে দিল কেন্দ্র, বলল করোনা মহামারী তৃতীয় পর্যায় পৌঁছায়নি ভারতে ...

পিপিই-র দাম ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, হাসপাতালের বিল দেখেই চক্ষুচড়ক গাছে করোনা রোগীর ...

'সুপ্রিম' নির্দেশে স্বস্তিতে বেসরকারি চাকরিদাতারা, জুলাই পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয় ...

এরপরই রাহুল গান্ধী বলেন আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়েও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি তাঁর দেশের ডিএনএ জানেন। হাজার হাজার বছর ধরে এই দেশের ডিএনএ একই রকম রয়ে গেছে। দেশের এই চরিত্রের কোনও পরিবর্তন হয়নি। রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতীয়রা খুবই সহনশীল জাতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সহনশীলতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। সহনশীলতার সেই ডিএনএ তিনি আর দেখতে পাচ্ছেন না বলেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতে হিন্দু মুসলিম শিখ নিয়ে বিবাদ হচ্ছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকায়ে বিভাজন চলছে। এইভাবেই মানুষ দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন আগে 

চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত উত্তাপ নিয়ে রাহুল গান্ধীর মতামত জানতে চান বার্নস। তাই কংগ্রেস সাংসদ তাঁকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সংহিংসতার কোনও প্রতিযোগিতা তিনি চাননা। পাশাপাশি জানিয়েছে গণতান্ত্রিকভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা রাখেন তিনি। তবে প্রত্যেকেই নিজস্ব নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। তাদের কতৃত্ববাদী দৃষ্টি ভঙ্গী রয়েছে আর আমাদের বিশ্বল গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। বিশ্ব গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ভালো পরিস্থিতি তৈরি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। 
 

এরপরই কংগ্রেস সাংসদ করোনা পরবর্তী সময় বিশ্ব রাজনীতি প্রসঙ্গে জানতে চান বার্নসের কাছে। যার উত্তরে বার্নস বলেন আমাদের আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা সরিয়ে রেখে জলবায়ু পরিবর্তেনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আর সেই সময় বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। কিন্তু এখন চিন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র -ভারত সবাই সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। আমাদের এখন প্রয়োজন স্থান সংরক্ষণের। সরকারের কাছে প্রত্যেক মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চিন উন্নতি করেছে এটা যেমন ঠিক। তেমনই চিনের শাসন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বার্নস। তিনি বলেন ভয়ের বাতাবরণ রয়েছে চিনে। হংকং-এর পরিস্থিতিও তুলে আনেন তিনি। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।