আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) এবং ফিজিল্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ গবেষণায় চাঁদের গভীর অভ্যন্তর নিয়ে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রযান-৪ (Chandrayaan-4) মিশনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা

আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) এবং ফিজিল্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ গবেষণায় চাঁদের গভীর অভ্যন্তর নিয়ে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রযান-৪ (Chandrayaan-4) মিশনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। আসলে একটি ইলমেনাইট-সমৃদ্ধ কিউমুলেট শিলাকে নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। সেটিকে পরীক্ষা করেই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪.৩ থেকে ৪.৪ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদের উপর একটি বিশাল গলিত শিলার সমুদ্র বা 'ম্যাগমা ওশান' ছিল। সেই সময় চন্দ্রপৃষ্ঠ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়ার ফলে ভারী খনিজ স্তরগুলি চাঁদের মাটিতে তলিয়ে যায় এবং সেখানেই বিলীন হয়ে যায় চাঁদের প্রাচীন ইতিহাস।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

IIT এর সাম্প্রতিক গবেষণায় চাঁদের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। যেখানে চাঁদ একটি গলিত লাভা বা "আগুনের সমুদ্র" (Magma Ocean) দ্বারা আবৃত ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই অগ্নিকাণ্ড প্রায় ১ বিলিয়ন বছর ধরে সক্রিয় ছিল এবং পরবর্তীকালে ঠান্ডা হয়ে বর্তমানের কঠিন চাঁদে পরিণত হয়।

এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:

• আগুনের সমুদ্রের সময়কাল: গবেষণায় জানা গেছে, সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে চাঁদের পৃষ্ঠভাগ সম্পূর্ণ গলিত ম্যাগমা বা লাভা দ্বারা ঢাকা ছিল। এটি প্রায় ৪.২ বিলিয়ন বছর আগের ঘটনা।

• সক্রিয় অগ্ন্যুৎপাত: এই পরিস্থিতি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই চাঁদের এমন অগ্নিগর্ভ রূপ ছিল।

• ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া: এই ম্যাগমা মহাসাগর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে কঠিন পাথরে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে চাঁদের বুকে যে কালো দাগ (Maria) দেখা যায়, তা প্রাচীন এই লাভা প্রবাহেরই প্রমাণ।

• জলের উৎসের রহস্য: বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রাচীন অগ্ন্যুৎপাতের কারণেই চাঁদের পৃষ্ঠদেশে জলের অণুর উপস্থিতি বা উৎস তৈরি হয়েছিল।

এই গবেষণা চাঁদ কিভাবে গঠিত হয়েছিল এবং তার বিবর্তন কিভাবে ঘটেছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের মতে, এর ফলে চাঁদের অন্দরে কোথায় টাইটানিয়াম-সমৃদ্ধ শিলা পাওয়া যেতে পারে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং চাঁদ থেকে আনা নমুনার উৎস ও গঠন বুঝতে সুবিধা হবে। কাজেই এতে চন্দ্রযানের সঠিক ল্যান্ডিং সাইট বাছাইয়ের কাজ আরও সহজ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চন্দ্রযান-৪ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে একটি পার্বত্য অঞ্চলে অবতরণ করতে পারে। ইসরো-র (ISRO) বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলকে নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন।