কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতে জনসংখ্যার পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য 'অস্বাভাবিক' কারণে জনসংখ্যার যে বদল হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখবে এই প্যানেল। শাহের মতে, এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার ভারতে জনসংখ্যার পরিবর্তন (demographic change) খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণার ফলো-আপ হিসেবে উল্লেখ করে শাহ এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানান, সরকার এখন "জনসংখ্যার পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি" (High-Level Committee on Demographic Change) চালু করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জনসংখ্যার বিন্যাসকে প্রভাবিত করে এমন অন্যান্য "অস্বাভাবিক" কারণগুলো খতিয়ে দেখা। শাহ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, "অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেকোনো দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্যই ১৫ আগস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।"
কমিটিতে কারা আছেন?
এই কমিটির মাথায় থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাগোলেকর। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন সেন্সাস কমিশনার, প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন।
প্যানেলের কাজ কী হবে?
এই প্যানেলের কাজের পরিধি সম্পর্কে শাহ বলেন, জনসংখ্যার পরিবর্তন "শুধুমাত্র আমাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেই যুক্ত নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোর গভীর পরিবর্তন এবং আদিবাসী সমাজকে রক্ষা করার মতো গুরুতর বিষয়গুলির সঙ্গেও জড়িত।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটিকে সারা দেশে জনসংখ্যার পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে যে পরিবর্তনগুলি ঘটছে, তা এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক স্তরে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী সমাধান খুঁজে বের করবে।"
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই প্যানেল বিভিন্ন ডেটা ট্রেন্ড নিয়ে গবেষণা করবে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত সুপারিশ দেবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই কমিটিকে তার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি
সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শাহ বলেন, এই উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপ। শাহ আরও বলেন, "আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে দেশের অখণ্ডতা এবং এর সামাজিক কাঠামো যেন সঠিক তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে।"


