নেপাল-চিন সীমান্তে হিমবাহ লেক ভেঙে সৃষ্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এখানকার একাধিক হিমবাহ লেকও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
নেপাল-চিন সীমান্তে হিমবাহ লেক ভেঙে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্বেগ বাড়ছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে। ভোটেকোশি নদী তীরবর্তী রসুয়া জেলা বুধবারের বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার জেরে পাহাড়ের বিভিন্ন লেকে বিপদঘন্টি বেজে গিয়েছে। সিকিমে প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতায় অন্তত ১৭টি হিমবাহ লেক বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। এর মধ্যের একটি হ্রদ ভেঙে গেলে শুরু সিকিম নয়, বঙ্গের চার জেলায় পড়বে প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০২৩-র সেই বিপর্যয়ের দিনে দক্ষিণ লোনার্ক হ্রদের কাছে নেপালে পর পর কয়েকটি ভূমিকম্প আছে। এবারও একই সম্ভাবনা আছে। অনুমান করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের জেরে বিমবাহ-সৃষ্ট কোনও লেকের পাড় ভেঙে জলস্রোত কয়েকটি শাখানদী দিয়ে ভোটেকাোশী নদীতে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ল্যান্ডস্লাউড লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা এলএলওএফ। আইআইটি মুম্বইয়ের আর্থ সায়েন্স বিভাগের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার মলয় মুকুলের বক্তব্য, নেপাল-চিন সীমান্ত এলাকার ভোটেকোশির একটি শাখানদীতে সম্ভবত এলএওএফ হয়েছে। ভূমিকম্পের জেরে হিমবাহ লেক ভেঙে এই বিপর্যয় হয়ে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের আগে ওই এলাকায় কয়েকটি ভূকম্পন হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গিয়েছে। সেই বানে নিহত অন্তত ১৬৫ জন। ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ পর্যটকের খোঁজ নেই। তাদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয়। আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, আমারেকির নাগরিকও আছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটিজ-র নেপাল শাখার প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, অনেক গ্রাম এবং বাজার এলাকা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী।


