পশ্চিম এশিয়া সংকটের আবহে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অবাধ ও সুরক্ষিত রাখার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্বের একাধিক নেতার কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথা বলেছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান
পশ্চিম এশিয়া সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালী-সহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে জাহাজ চলাচল যাতে অবাধ ও সুরক্ষিত থাকে, তার পক্ষে ভারত আবার জোরালো সওয়াল করেছে। শুক্রবার বিদেশমন্ত্রক এই কথা জানিয়েছে।
এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বরাবরই মনে করে যে বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য সারা বিশ্বের শিপিং রুটগুলি খোলা এবং সুরক্ষিত থাকা উচিত।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, "আপনার প্রশ্ন হরমুজ প্রণালী নিয়ে। দেখুন, হরমুজ প্রণালী হোক বা বিশ্বের অন্য কোনও জলপথ, আমাদের অর্থাৎ ভারতের অবস্থান হল, আমরা আমাদের জাহাজগুলির নিরাপদ এবং অবাধ চলাচলের পক্ষে।"
তিনি আরও বলেন, "এই বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, যার বিশদ বিবরণ আমি কিছুক্ষণ আগেই দিয়েছি। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে কারণ এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।"
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব
জয়সওয়াল বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় ভারতের অনেক জাহাজ কাজ করছে। তিনি বলেন, "আমাদের ২২টি জাহাজ সেখানে রয়েছে এবং ওই এলাকা, অর্থাৎ পারস্য উপসাগর থেকে, বিশ্বে প্রচুর জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। তাই এটি আমাদের এবং বিশ্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি বলেন, ভারত এই অঞ্চলের সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, "এই কারণে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে আমরা এর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি, এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এই নিয়ে অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। আর এই বিষয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।"
পশ্চিম এশিয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কূটনৈতিক তৎপরতা
এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্বের পাঁচজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং কূটনীতির ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলারও নিন্দা করেন।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, প্রধানমন্ত্রী ওমান, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, জর্ডন এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জয়সওয়াল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী গতকাল পাঁচজন বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ওমান, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, জর্ডন এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য আলোচনা ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।"
তিনি আরও বলেন যে নেতারা জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপদ সামুদ্রিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।


