যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তিন বছরের মেয়াদের জন্য সাধারণ নাগরিকদের সামনে  সেনাবাহিনীর দরজা খুলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই নাগররিককে সেনা বাহিনীর অফিসার পদেও নিয়োগ করা হতে পারে। প্রয়োজনে ফ্রন্ট লাইনেও তাঁকে ব্যবহার করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট নাগরিককে কোনও দেশীয় সংস্থায় কর্মরত হতে হবে। বয়স হতে হবে ২৬ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। আবার সদ্যো কলেজ পাশ করা যুবকরাও সেনাবাহিনীর সদস্য হতে পারেন। সেক্ষেত্র তাঁদের বয়স ২২ থেকে ২৩-এর মধ্যে হতে হবে। সেনা বাহিনী সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিকে আধা সামরিক বাহিনী বা পুলিশ বাহিনীতে কমপক্ষে সাত বছররে জন্য সুযোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যুবক আবারও ফিরে যাবেন তাঁর পুরনো কর্মস্থলে। 

আরও পড়ুনঃ আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ, এক নজরে দেখুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির জন্য কেন্দ্রের ভূম.

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্তা জানাচ্ছেন গেম চেঞ্জিং বা ট্যুর অব ডিউটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আর এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হল সাধারণ নাগরিকদের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। শক্তিশালী ভারতীয় বাহিনীর অন্দরমহলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া। তবে এক্ষেত্রেও নির্বাচনের মানদণ্ডে কোনও রকম পরিবর্তন করা হবে না বলেও সূত্রের খবর। প্রাথমিকভাবে ১০০ জন কর্মকতা ও ১ হাজার সদস্য নিয়োগ করার কথা বিবেচনা করা হয়েছে। ভারতীয় যুব সমাজের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রমের পুনরুত্থানের জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণের কথা চিন্তাভাবনা করছে বলেও জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর সূত্রটি। 

আরও পড়ুনঃ মোদীর 'দো গজ দুরি'কে ধুলোয় মিশিয়ে দিল শিবরাজের মধ্য প্রদেশ, স্বাগত জানাল সাধুকে ...

আর একটি সূত্রে দাবি ট্রান্সফার অব ডিউটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর  ব্যায় সংকোচ হবে। কারণ ওই স্কিমের অধীনস্ত কর্মীদের গ্র্যাচুইটি, পেনশন, ছুটির বিনিময়ে নগদ অর্থ কিছুই দিতে হবে না। তবে যেসব তরুণ কর্মজীবীরা এই স্কিমের আওতায় আসবেন তাঁদের বেতন তাঁদের কর্মস্থান থেকে প্রাপ্ত বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে  কিনা তা  এখনও স্পষ্ট করেনি ভারতীয় বাহিনী। 

আরও পড়ুনঃ নির্মলার ঘোষণার পরেও অন্ধকার দাদল স্ট্রিটে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পতন ...

সেনা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে সেনাবাহিনীর একজন অফিসারের জন্য প্রশিক্ষণ, বেতন, অন্যান্য খাতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা ব্যায় হয়। শর্ট সার্ভিসে অফিসারদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশকেই স্থায়ী করা হয়। যাঁরা ৫৪ বছর পর্যন্ত সেনা বাহিনীতে থাকার সুযোগ পায়। সেক্ষেত্রে ব্যায় অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু ৩ বছরে মেয়াদে সেই পদ দেওয়া হলে খচর অনেকটাই কমে ৮০ থেকে ৮৫ লক্ষ টাকায় দাঁড়াবে। উদ্বৃত্ত অর্থ ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে খরচা করা যাবে। আবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেই তরুণও বেসরকারি ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। কারণ বাহিনীর প্রশিক্ষণের ফলে সেই তরুণ ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, সামাজিক দক্ষতা, কর্মক্ষমতায় অন্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।