অবতরণের প্রস্তুতির সময়ই পাইলট বুঝতে পারেন, বিমানের বাম ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান।

অবতরণের ঠিক আগেই বিমানের বাম ইঞ্জিনে গোলযোগ। মুহূর্তে তৈরি হল আতঙ্কের পরিস্থিতি। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতা থেকে চেন্নাইগামী IndiGo-র একটি বিমানে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চেন্নাই বিমানবন্দরে ঘোষণা করা হয় ‘ফুল ইমার্জেন্সি’। তবে শেষ পর্যন্ত বড় কোনও বিপদ ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে। নিরাপদেই বিমানটি অবতরণ করে।

জানা গিয়েছে, IndiGo-র 6E-723 বিমানটি কলকাতা থেকে চেন্নাই যাচ্ছিল। বিমানটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২২৪ জন ছিলেন। ১১ অগস্ট রাত ১১টা ২৯ মিনিট নাগাদ বিমানটির জন্য চেন্নাই বিমানবন্দরে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। বিমানটির নির্ধারিত অবতরণের সময় ছিল রাত ১১টা ৩০ মিনিট।

অবতরণের প্রস্তুতির সময়ই পাইলট বুঝতে পারেন, বিমানের বাম ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সক্রিয় করে। লক্ষ্য ছিল, কোনও ঝুঁকি ছাড়াই বিমানটিকে রানওয়েতে নামানো। এরপর রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে রানওয়ে ২৫-এ নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা ২২৪ জন যাত্রী ও ক্রু-র প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন। প্রায় ১০ মিনিট পর, রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে বিমানবন্দরে জারি করা ‘ফুল ইমার্জেন্সি’ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর বিমানবন্দরের অন্যান্য পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। ঘটনার জেরে কোনও হতাহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিমানের বাম ইঞ্জিন ঠিক কী কারণে বিকল হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবতরণের ঠিক আগে ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি প্রস্তুতির ফলে বিমানটি নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।