বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রী-র জনপ্রিয়তা সহ্য হল না। স্রেফ সন্দেহের বশে তাঁকে থেঁতলে খুন করল এক যুবক! ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধৃতের নাম মহম্মদ আয়াজ। একটি অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থায় চাকরি সে। বিয়ের আগে ওই সংস্থাতে চাকরি করতেন  আয়াজের স্ত্রী রেশমাও। চাকরি করতে গিয়ে দু'জনের আলাপ ও প্রেম। কিন্তু বিয়েতে আপত্তি করেন বাড়ির লোকেরা। শেষপর্যন্ত বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে রেশমাকে বিয়ে করে আয়াজ। বিয়ের পর অবশ্য তাঁদের সম্পর্ক দুই বাড়ির তরফেই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়। চাকরি ছেড়ে দেন রেশমা। ওই দম্পতির মেয়ের বয়স তিন মাস। কিন্তু বিবাহিত জীবনে সুখী ছিলেন না আয়াজ। বরং দিন দিন স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তার। 

জানা গিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে নয়,চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসতেন রেশমা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ছবি ও  ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। আর তাতে লাইক, কমেন্টও পড়ত বিস্তর। দিন দিন ভার্চুয়াল জগতে জনপ্রিয়তা বাড়ছিল ওই গৃহবধূর। ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ার ছিল ছয় হাজারের বেশিও। সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আওয়াজের সঙ্গে খুব বেশি কথাও বলতেন না রেশমা। মন ছিল না সংসারের কাজেও। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও হত। আওয়াজের মনে সন্দেহ জেগেছিল, পরকীয়া সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়েছেন রেশমা। বারবারই স্ত্রীর ফোন দেখতে চাইত সে।

আরও পড়ুন: চোখে সানগ্লাস, হাতে বন্দুক, ঘোড়ায় চেপে বিয়ে করতে গেলেন দুই বোন

পুলিশ সূত্রে খবর, পারিবারিক অশান্তির কারণে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন রেশমা।  গত রবিবার শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যায় আয়াজ। অনেক বোঝানোর পর স্বামীর বাড়িতে ফিরতে রাজিও হয়ে যান রেশমা। আর সেটাই কাল হল। শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে আয়াজ স্ত্রীকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে বলে অভিযোগ।  এদিকে রেশমার খোঁজ না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়ের করেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা। ঘটনার পর একদিন পর ওই গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়  মহম্মদ আয়াজকে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই দিল্লিতে যাওয়ার পথে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন হুগলির চুঁচুড়ার টিকটকখ্যাত এক গৃহবধু। স্ত্রীর খোঁজ পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হন স্বামী।  এই ঘটনার খবর চাউর হতেই ভিডিও কল কলে নিজের মা-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই গৃহবধূ। জানান, স্বামীর অত্যাচারেই ঘর ছেড়েছেন তিনি।