তিন মে থেকে জাতিগত হিংসায় উত্তপ্ত হচ্ছে মণিপুর। ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ট মেইটিদের সঙ্গে পাহাড়ের দখলদদার কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে। 

নতুন করে হিংসার ঘটনায় আবারও উত্তাল মণিপুর। মহিলাদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রাজধানী ইম্ফল। মহিলারা পথ অবরোধ করে। আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে টায়াকে। পাল্টা পুলিশও বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরাতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন রাস্তায় ফ্ল্যাগ মার্চ করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মণিপুর সশস্ত্র পুলিশের সঙ্গে সেনা বাহিনী ও ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও কাজ করছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত তিন মে থেকে জাতিগত হিংসায় উত্তপ্ত হচ্ছে মণিপুর। ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ট মেইটিদের সঙ্গে পাহাড়ের দখলদদার কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে। এই পর্যন্ত জাতিগত হিংসায় প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেইতি সম্প্রদায়ের তফশিলি উপজাতির দাবি জানালে প্রতিবাদে সরব হয় কুকি সম্প্রদায়। তাতেই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পাহাড়ের দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। টানা দুই মাস ধরে হিংসা চলার পরি দিন কয়েকের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ড হয়েছিল। চালু করা হয়েছিল ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্টারনেট চালু হওয়ার পরেই মণিপুরে হিংসার একাধিক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যারমধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল মহিলারদের নগ্ন করে রাস্তা দিয়ে জোর করে হাঁটানো। এদিন এই ঘটনার প্রতিবাদে মহিলাদের নিরাপত্তার দাবিতে ইম্ফলে সরব হয় মহিলারা।

শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ ইম্ফলের রাস্তায় মহিলা আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়। তারা দুই দিকের রাস্তা অবরোধ করে দেয়। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। মহিলারাও রাস্তা অবরোধ করে রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। রাজধানী ইম্ফলের একাধিক জায়গায় রুটমার্চ করছে প্রশাসন।

অন্যদিকে মণিপুর মহিলা নিগ্রহের ঘটনায় এদিন ১৯ বছর বয়সী আরও এক তরুণকে গ্রেথফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে মহিলা নির্যাতনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দিন মণিপুরে মহিলা নিগ্রহের একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হয়। যা নিয়ে তোলপাড় হয় গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়। তিনি বলেছেন মণিপুরের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। এই ঘটনা দেশের লজ্জা। মণিপুরে মহিলা নির্যাতনের ঘটনা সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। মণিপুরে মহিলা নিগ্রহের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও নির্যাতিত মহিলাদের অভিযোগ, জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে পুলিশই উন্মত্ত জনতার হাতে তাদের তুলেদিয়েছিল। এই ঘটনা ঘটেছিল থানার মাত্র ২ কিলোমিটার আগে। মহিলাদের যখন নগ্ন অবস্যায় প্যারেড করান হয়েছিল তখন সেই ঘটনারও সাক্ষী ছিল পুলিশ।