ছোট্ট একটা পাখি। পায়ে ঘুড়ির সুতো জড়িয়ে গিয়ে বেচারি উড়তে পাড়ছিল না। আর তাকে বাঁচাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উঠেছিলেন গাছে। ভুল বোঝাবুঝিতেই আরেকটু হলেই শাস্তি পেতেন তিনি। রবিবার, মন কি বাত-এর ৫৯তম পর্বে, নিজেই এই গল্প ফাঁস করলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন ছিল ন্য়াশনাল ক্য়েডট কর্পস ডে। মন কি বাত-এর স্টুডিও-তেই সেই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন ক্যাডেট-এর সঙ্গে মিলিত হন। তিনি জানান, গ্রামের স্কুলে পড়ার সময় তাঁর এনসিসি বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানেই তিনি শৃঙ্খলার পাঠ পেয়েছিলেন। এনসিসি ক্যাডেটের উর্দি তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করেছিল।

আরও পড়ুন - 'মন কি বাত'-এ ক্যাডেটদের 'কঠিন' প্রশ্নের মুখে মোদী, জবাব এল রাজনীতিতে আসতেই চাইনি

এরপরই ক্যাডেটদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। এক ক্যাডেট প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, প্রধানমন্ত্রী মোদী ছোটবেলায় কতবার শাস্তি পেয়েছেন? প্রধানমন্ত্রীকে একবারও ভাবতে হয়নি। তিনি জানান, তিনি ছোট থেকেই অত্যন্ত শৃঙ্খলিত ছিলেন। তাই তাঁকে কখনও শাস্তি পেতে হয়নি। তবে একবারই সেইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন - অযোধ্যা রায় থেকে সেনাদিবস, একনজরে জেনে নিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'মন কি বাত'

তখন তিনি, এনসিসি-র সদস্য। শিবিরে অনুশীলন চলাকালীনই ছোট্ট নরেন্দ্র মোদীর চোখ পড়ে গাছের ডালে আটকে যাওয়া পাখিটার দিকে। ঘুড়ির সুতোয় পা জড়িয়ে গিয়ে বারবার উড়তে চেষ্টা করেও সে উড়তে পারছিল না। ক্রমে আরও জড়িয়ে যাচ্ছিল। সএই সময়ই শৃঙ্খলা ভেঙে সটান গাছে উঠে পড়েছিলেন নমো। সুতো কেটে পাখিটিকে মুক্তি দেন।

আরও পড়ুন - অযোধ্যা রায়ের পর মানুষ সংযম দেখিয়েছেন, মন কি বাতে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর

গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর অবশ্য শিবিরের অন্যান্যরা তাঁকে ভয় দেখিয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে তিনি বড় শাস্তি পেতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সেই ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু, পরে কর্পস কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনা জানতে পেরে তাঁর প্রশংসাই করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর জীবনের এই কাহিনি নিঃসন্দেহে ক্য়াডরদের আরও শৃঙ্খলিত হতে এবং কোন সময়ে সেই শৃঙ্খলা ভাঙতে হবে সেই সম্পর্কে তাদের মনে পরিষ্কার ধারণা তৈরি করতে যথেষ্ট সহায়ক হবে।