Modi and Trump Discuss: পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আরও এক দফা কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই খবর জানিয়ে বলেন, দুই নেতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় এই সংঘাত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে বাণিজ্যপথ ব্যাহত হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ, তা 'খুব শিগগিরই খুলে যাবে'। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, আমেরিকা ও ইরান যৌথভাবে এটি পরিচালনা করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা সফল হলে এই প্রণালী 'খুব শিগগিরই খুলে যাবে'। তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি এবং ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি 'যৌথভাবে' এই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল ও বিশ্ব জ্বালানি পথটি নিয়ন্ত্রণ করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "এটা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আমি আর আয়াতোল্লা, যিনিই পরবর্তী আয়াতোল্লা হন না কেন।"

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। স্বাভাবিক অবস্থায় এই পথ দিয়ে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলজাত পণ্য পরিবহন করা হয়, যা বিশ্বের সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ। কিন্তু এই অঞ্চলের সংঘাতের কারণে জলপথটি যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে শক্তি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান যে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমেরিকা ইরানের এক 'শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির' সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি নেই।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী সংসদে জানিয়েছেন যে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আমেরিকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন। মোদী বলেন, "যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমি পশ্চিম এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দু'বার ফোনে কথা বলেছি। আমরা সব উপসাগরীয় দেশ, ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।" তিনি আরও বলেন, "কূটনীতির মাধ্যমে ভারত চেষ্টা করছে যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও দেশের জাহাজগুলো নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। ভারত এই সমস্যা মেটাতে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়দের সুরক্ষাই ভারতের কাছে অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, "উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন ও কাজ করেন। তাদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। হরমুজ প্রণালীতে বিশ্বের অনেক জাহাজ আটকে পড়েছে এবং সেগুলোতে অনেক ভারতীয় ক্রু সদস্যও রয়েছেন, যা ভারতের জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে, ভারতের সংসদের এই উচ্চকক্ষ থেকে শান্তি ও আলোচনার পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা সারা বিশ্বে যাওয়া উচিত।" একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জাহাজ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ সিনহা স্পষ্ট করে দেন যে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, "(হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য) কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমি যেমনটা বললাম, এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রণালী। আগেও অনুমতির দরকার ছিল না, আজও নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী সুরক্ষা কেমন হবে, কীভাবে যাওয়া উচিত, কোন সময়ে যাওয়া উচিত, তা অবশ্যই মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কারও কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আপনারা জানেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রণালী এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এখানে অবাধে জাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে। এর ওপর কোনও শুল্ক চাপানো যায় না। তাই এই বিষয়ে কেউ কোনও যুক্তি দিলে তার কোনও ভিত্তি নেই। এটি একটি ভিত্তিহীন যুক্তি।" পশ্চিম এশিয়ায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে আমেরিকার আলোচনার উদ্যোগ কিছুটা সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।