বৃহস্পতিবার সংসদের মকর দ্বারের বাইরে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূলের সাসপেন্ডেড সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কথা হয়। দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন প্রতিবাদ করছিলেন।

বৃহস্পতিবার সংসদের মকর দ্বারের বাইরে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাসপেন্ডেড সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মধ্যে একপ্রস্থ কথাবার্তা হল। দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই কথা বলেন তাঁরা। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ছিলেন বিহারের সাংসদ পাপ্পু যাদব। প্রিয়াঙ্কা কল্যাণকে তৃণমূলের দল ভাঙানোর খেলার কথাই এদিন একবার মনে করিয়ে দেন।

তৃণমূল সাংসদদের ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে (NCPI) যোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে মকর দ্বারের বাইরে প্রতিবাদ করছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলবদলু তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগের ভিত্তিতেই কল্যাণ গোটা বদল অধিবেশনের জন্যই সাসপেন্ড হয়েছেন। তবে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিত্যদিনই সাংসদ চত্ত্বরে প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন। প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন। এদিন প্রতিবাদ দেখানোর সময়ই কল্যাণের মুখোমুখি হন প্রিয়াঙ্কা। সেই সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর কাছে গিয়ে বলেন, "আপনারাই তো কংগ্রেস থেকে ওদেরকে তৃণমূলে নিয়ে গেলেন।"

এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছিল।" পাশাপাশি সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন কল্য়াণ। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, যারা তৃণমূল সাংসদ তারা কেউই কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সাংসদ হননি। মমতাই তাদের সাংসদ করেছিলেন।

উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, "রাজীব গান্ধী কিন্তু সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ে স্নেহ করতেন। সর্বদাই তাঁকে সামনের সারিতে এগিয়ে দিয়েছেন।" কল্যাণবাবুও সেই কথা মেনে নেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, মমতা যখন কংগ্রেস ছাড়েন তখন রাজীব গান্ধী প্রয়াত হয়েছেন। সনিয়া গান্ধীও সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। সেই সময় কংগ্রেসের দায়িত্ব ছিল সীতারাম কেশরীর হাতে। তবে প্রিয়াঙ্কা বেশি কথা বাড়াননি কল্যাণের সঙ্গে। কিন্তু তৃণমূলের দল ভাঙার ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুধু।

এদিকে, ছাত্র বিক্ষোভের উপর পুলিশি অ্যাকশনের অভিযোগে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তাদের প্রতিবাদ জারি রেখেছে। এই ঘটনার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে যুক্ত করে তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, অমিত শাহের কি আজ সংসদে থাকা উচিত? তিনি বলেন, "হ্যাঁ, ওঁর আসা উচিত।" শাসক দল এবং বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই এই মন্তব্য সামনে এসেছে। কংগ্রেস নেতারা সংসদে ওঠা বিভিন্ন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব চাইছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি অ্যাকশন এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগে বিরোধী সাংসদরা সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে বিক্ষোভ শুরু করেন। INDIA জোটের বেশ কয়েকটি দলের সাংসদরা সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মকর দ্বারে জড়ো হন। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল, যেখানে ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি অ্যাকশনের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। সাংসদরা পড়ুয়াদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের অনুদানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি চেয়ে স্লোগানও দেন।

এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন রাজ্যসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ বিবেচনার জন্য পেশ হওয়ার কথা।