পহেলগাঁও হামলায় অভিযুক্ত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদকে আদালতের পাঠাবে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন পাঠানো হবে, যাতে সইদকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য জম্মুতে অবস্থিত এনআইএ-র বিশেষ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আদালত সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানাও জারি করেছে।
পহেলগাঁও হামলায় অভিযুক্ত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদকে আদালতের পাঠাবে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন পাঠানো হবে, যাতে সইদকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য জম্মুতে অবস্থিত এনআইএ-র বিশেষ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আদালত সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানাও জারি করেছে। এনআইএ তাকে এই হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে হাফিজ সইদের নাম
জুলাই মাসে দাখিল করা একটি চার্জশিটে এনআইএ সইদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। সেখানে তাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-এ-তইবা (LeT) ও তার প্রক্সি সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF)-এর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হাফিস সইদের বিরুদ্ধে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩' এবং 'বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭'-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তান থেকে ষড়যন্ত্র করা। এনআইএ-র মূল ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটের ধারাবাহিকতায় এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছিল।
১,৫৯৭ পাতার চার্জশিটের পর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এতে পাকিস্তান-ভিত্তিক কথিত ষড়যন্ত্রের বিবরণ, সইদের ভূমিকা এবং তদন্তকালে সংগৃহীত প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ দাখিল করা মূল চার্জশিটে এনআইএ পাকিস্তানের কথিত হ্যান্ডলার সাজিদ জাট, জুলাই ২০২৫-এ 'অপারেশন মহাদেব'-এর সময় নিহত তিন সন্ত্রাসবাদী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছিল। এছাড়া, হামলাটির পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে কথিত ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-এ-তইবা/টিআরএফ-কেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হামলা
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে এই হামলাটি ঘটেছিল। পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। শুরুতে পহেলগাঁও পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছিল, পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও যদি সইদ হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩'-এর ৩৫৬ নম্বর ধারার অধীনে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ধারায় এমন কোনও ঘোষিত অপরাধীর অনুপস্থিতিতে তদন্ত, বিচার ও রায় ঘোষণার অনুমতি দেওয়া হয়, যে বিচার এড়াতে পলাতক রয়েছে এবং যাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার কোনও সম্ভাবনা নেই।


