Bihar Politics: বিহারের রাজনীতিতে নয়া মোড়। নীতিশ কুমার বিধানল পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তিনি ছিলেন রাজ্যের সবথেকে বেশি দিনের মুখ্যমন্ত্রী। বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে- জল্পনা শুরু।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল (JD) প্রধান নীতীশ কুমার বিধান পরিষদের সদস্যপদ (MLC) থেকে ইস্তফা দিলেন। রাজ্যের সবচেয়ে বেশি দিন মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার রেকর্ড তাঁরই দখলে। এই মাসের শুরুতেই তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই কারণেই নিয়ম মেনে রাজ্যের আইনসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি। বিহারের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ মার্চ, ৭৫ বছর বয়সী নীতীশ একটি বার্তায় তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বিহারের বিধানসভা ও বিধান পরিষদের পাশাপাশি সংসদেরও সদস্য হওয়ার ইচ্ছা তাঁর বহুদিনের। তিনি একটি "উন্নত বিহার" গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন সরকারকে তাঁর "সহযোগিতা ও পরামর্শ" দেওয়ার কথাও বলেন। নীতীশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)। সংসদীয় গণতন্ত্রে তাঁর ফিরে আসাকে তারা প্রশংসাও করেছে।
এর এক সপ্তাহ আগেই, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর প্রেসিডেন্ট পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন নীতীশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে আর কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক কেরিয়ার জোট রাজনীতির এক দারুণ উদাহরণ। বারবার আদর্শগত অবস্থান বদল করেও তিনি প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। ১৯৮৫ সালে বিধায়ক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। পরে বাজপেয়ী সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। ২০০৫ সালে NDA-র মুখ হিসেবে তিনি প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন।
কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে নীতিশ কুমারের জোট-বদলের খেলা যেন এক 'রিভলভিং ডোর'-এর মতো হয়ে উঠেছে। ২০১৩, ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে তিনি কখনও বিজেপি, তো কখনও মহাগঠবন্ধন (আরজেডি ও কংগ্রেস)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এত ঘন ঘন শিবির বদলের পরেও তাঁর রাজনৈতিক টিকে থাকার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। সম্প্রতি ২০২৫ সালে তিনি পঞ্চমবারের জন্য বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং রেকর্ড দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নীতীশের রাজ্যসভায় যাওয়া বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যে বিজেপির প্রভাব আরও বাড়তে পারে এবং পাটনায় এক নতুন নেতৃত্বের রাস্তা তৈরি হতে পারে।
নীতিশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিহারের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কথায় এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবেন বিজেপির কোনও সদস্য। কারণ ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৮৯টি আসন। সেই হিসেবে বিজেপি বিহারের একক বৃহত্তম দল। আর জোটসঙ্গী নীতিশের দল পেয়েছিল ৮৫টি আসন। সেই হিসেবে বিজেপির প্রাপ্য মুখ্যমন্ত্রীর কুরশি। তবে এবার বিহারের দুটি উপমুখ্যমন্ত্রীর পদই যেতে পারে জেডিইউ-র দখলে। নীতিশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের ভাগ্যে এবার উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের শিঁকে ছিঁড়তে পারে। কারণ দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা চলছে।


