জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন জোয়ার এসেছে। বহু প্রতীক্ষিত চওড়া রাস্তা ও নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়ায় যাতায়াত সহজ হবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং প্রায় ৪০ বছর পর স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নওশেরাতে এখন উন্নয়নের জোয়ার। বিশেষ করে রাস্তাঘাট আর ব্রিজের মতো পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বহু বছর পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
নওশেরার মানুষ বছরের পর বছর ধরে সরু, ভাঙাচোরা এক লেনের রাস্তা নিয়ে সমস্যায় ভুগেছেন। এবার সেই সব রাস্তা চওড়া করে ডবল লেন করা হচ্ছে, সঙ্গে থাকছে পিচের আস্তরণ। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হল ৩ কিলোমিটার লম্বা একটি রাস্তা, যা প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তাটি ১০ মিটার চওড়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় চার দশক পর এমন বড় মাপের উন্নয়ন দেখছেন তারা।
অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, যাতায়াতও সহজ হবে
এই উন্নত পরিকাঠামোর ফলে শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাস্তা ভালো হওয়ায় অনেকেই ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহ পাবেন, যা এলাকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
শুধু তাই নয়, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে রোগী, যাদের আগে খারাপ রাস্তার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হত, তারাও अब দ্রুত এবং সহজে যাতায়াত করতে পারবে। যেসব এলাকায় আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে বেশ কয়েকটি ব্রিজও তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে নওশেরা এবং সীমান্তবর্তী সেরি ব্লকের মধ্যে একটি ব্রিজের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ব্রিজটি। এখন দ্রুত গতিতে এর নির্মাণকাজ এগোচ্ছে, যা দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে।
এলাকার বাসিন্দারা এই উন্নয়নের জন্য ডেপুটি চিফ মিনিস্টার সুরিন্দর কুমার চৌধুরীকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, নওশেরার প্রতি তাঁর বিশেষ নজর দেওয়ার ফলেই পরিকাঠামোর কাজ এত দ্রুত এগোচ্ছে। এই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখে মানুষের মধ্যে নতুন আশা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
'উমিদ' প্রোগ্রামের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন
অন্যদিকে, রাজৌরি জেলার ব্লক প্রোগ্রাম ম্যানেজার আফতাব আহমেদ ভারত সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন (NRLM)-এর প্রশংসা করেছেন। এই প্রোগ্রামটি সেখানে 'উমিদ' নামে পরিচিত।
তিনি জানান, এই প্রোগ্রামের সঙ্গে প্রায় ৯,০০০ সদস্য এবং ১,১০০ স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) যুক্ত আছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে যাতে তারা প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা ঠিকমতো পান।


