রওনা দিলেও লাভ হবে না। বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসতে হবে। কাশ্মীরের পথে যাওয়ার আগে রাহুলদের এই বার্তাই দিল সরকার।
ফের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে উত্তপ্ত হওয়ার পথে রাজধানীর রাজনীতি। শনিবার রাহল গান্ধিসহ ৯ বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা পৌঁছবেন কাশ্মীরে। গুলাম নবি আজাদ, সীতারাম ইয়েচুরিদের বক্তব্য় বলে দিচ্ছে কাশ্মীর নিয়ে হাল ছাড়বেন না তাঁরা। যদিও রওনা হওয়ার আগেই বাদ সেধেছে জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য় ও জনসংযোগ দফতরের একটি টুইট। যেখানে  বলা হয়েছে, 'সরকার এখন সীমান্তবর্তী সন্ত্রাস থেকে জম্মু কাশ্মীরের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।  এরকম একটা সময়ে রাজনৈতিক নেতারা জম্মু কাশ্মীরে এলে সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হবে।  সেকারণে এখন তাঁদের উপত্য়কায় আসা উচিত নয়।'

আরও পড়ুন : শারিরীক অবস্থার আরও অবণতি অরুণ জেটলির, জানাল এইমস

আরও পড়ুন : মহারাষ্ট্রে ভেঙে পড়ল বহুতল, মৃ্ত অন্তত ২, চলছে উদ্ধারকাজ
যদিও জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য় ও জনসংযোগ বিভাগের এই মন্তব্য় খুব একটা আমল দিচ্ছেন না বিরোধীরা। ইতিমধ্য়েই কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। তাঁর সঙ্গে থাকার কথা রয়েছ আনন্দ শর্মা ও রাহুল গান্ধির। কশ্মীরের পথে যাওয়ার সময় সংবাদ সংস্থাকে আজাদ বলেন,'আমরা বিরোধী দলের নেতারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমরা ওখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্য় যাচ্ছি না। ২০ দিন হয়ে গেছে। জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে নাা। সরকার বলছে সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাহলে কাশ্মীরে যেতে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য়ের মধ্যেই দ্বিচারিতা রয়েছে।'
তবেশুধু কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ নন, একই বক্তব্য় সিপিএম, সিপিআই ছাড়াও আরজেডি ও ডিএমকের। এদিনই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার কথা ৯ সদস্য়ের বিরোধী নেতার। যেখানে কংগ্রেসের তিন নেতা বাদে উপস্থিত থাকার কথা সিপিআইএমের সীতারাম ইয়েচুরি,সিপিআইয়ের ডি রাজা, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মনোজ ঝায়ের। কাশ্মীর পরিস্থিতি দেখতে রওনা হওয়ার কথা তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী, ডিএমকের ত্রিরুচি শিবার। সব মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীর বিবানবন্দর ঘিরে আজ সরগরম হতে চলেছে দেশের রাজনীতি। 

আরও পড়ুন : আরও সহজ ব্যাঙ্ক ঋণ, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ ঘোষণা সীতারমণের

আরও পড়ুন : আরও সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করল তিন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা
কাশ্মীরেরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বলছে, ইতিমধ্য়েই দুবার উপত্য়কায় ঢোকার চেষ্ট করেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। কিন্তু দুবারই তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। তবেআজ সবার নজর থাকবে রাহুল গান্ধি ও জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য়পাল সত্য়পাল মালিকের ওপর। কদিন আগেই কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি দেখতে রাহল গান্ধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সত্য়পাল মালিক। দুদিনের মধ্য়েই সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন রাহুল। যদিও পরে নিজের বক্তব্য় থেকে সরে আসেন মালিক। বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন,বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির রাজনীতিকরণ করতে চাইছেনে রাহুল। কোনও পূর্ব শর্তে রাহুলকে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। তাই নিমন্ত্রণ ফেরত নিলাম। রাজ্য়পালের এই নিমন্ত্রণকেই এখন হাতিয়ার করছে কংগ্রেস। সত্য়পাল মালিকের টুইটকে সামনে রেখে মোদী সরকারকে একের পর এক বাক্য়বাণ শানিয়ে চলেছেন রাহুল। তাই আজ জম্মু-কাশ্মীরের বিমানবন্দরে মালিককে নিয়ে মন্তব্য় করতেই পারেন সোনিয়া তনয়। সেদিকে সবার নজর থাকবে।
দেশের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের মানবিক অধিকার নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। 
বর্তমানে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি, ন্য়াশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা সব প্রায় চারশোরও বেশি নেতাকর্মীকে নজরবন্দি করে রেখেছে সরকার।