আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহা-সমাবেশ হতে যাচ্ছে। তার আগে বুধবার মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হাজির হন জোটের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্র সরকারের নীতি ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে এবার একজোটে সরব হওয়ার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

নতুন দিল্লি: আগামী ১ নভেম্বর রাজধানীতে বিরোধীদের জোট 'ইন্ডিয়া' (INDIA)-র মহা-সমাবেশ। তার আগেই বুধবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে গিয়ে মাঠের পুরো প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা।
মাঠ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্র সরকারের চরম সমালোচনা করেন শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ও স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ তোলেন তিনি।

সাওয়াান্ত বলেন, “দেশের গণতন্ত্র এখন যেভাবে চুরমার করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সবাই এক জোট হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এই সরকার অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী আর প্রতিহিংসাপরায়ণ—যে কোনো খারাপ বিশেষণই এদের জন্য কম পড়বে।”

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সব দলের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় দলের শীর্ষ নেতারা এবার এক মঞ্চে দাঁড়াবেন।
তাঁর সংযোজন, “বর্তমান সরকারের এই অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কংগ্রেস উদ্যোগ নিয়েছে, সাথে অন্য বিরোধী দলগুলোও রয়েছে। পরশুদিনই সব বড় নেতারা এক মঞ্চে আসছেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, অনৈতিক আর বেআইনিভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই সরকার।”

পরিদর্শনের সময় সিপিআই(এম) রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাস জানান, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আর আন্দোলন করার মৌলিক অধিকার রক্ষায় এই সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের জমায়েত হতে চলেছে। ব্রিটাস বলেন, “১ নভেম্বর এখানে কম করে ১০ লাখ মানুষ আসবেন। সবাইকে হয়তো এই মাঠে জায়গা দেওয়াও যাবে না, দিল্লির রাস্তাতেই থাকবেন অধিকাংশ মানুষ। এটা মূলত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ। সারা দেশের মানুষ আজ এই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে। এটা স্রেফ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের লড়াই নয়, এর পরিধি আরও বড়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ফেরানো এবং প্রতিবাদ জানানোর অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ এটি। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ দেশের আন্দোলনের ইতিহাসে একটা বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে, দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন আটকানোর চেষ্টা চলছে বলে তোপ দাগেন তিনি। প্রতিবাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বেবি বলেন, ব্যারিকেড তুলে পুরো দিল্লি স্তব্ধ করে জনগণের রাগ চেপে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বছরের পর বছর ধরে যন্তর মন্তর ছিল প্রতিবাদের মূল জায়গা। জুলাই মাস পর্যন্ত যেখানে আন্দোলন করা যেত, আজ সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে মানুষকে আটকে দেওয়া হচ্ছে—এটা কি মিথ্যা? সংবিধানে যে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার দেওয়া হয়েছে, এই সরকার তাকে বিন্দুমাত্র সম্মান করে না।"
কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ১ নভেম্বরের সমাবেশেই এর কড়া জবাব দেবে জনগণ।

এম এ বেবি আরও বলেন, "শহরের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে ওরা ভাবছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আটকে রাখা যাবে। এবার নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহের পথেই ব্যারিকেড গড়ে তুলবে জনগণ। ১ নভেম্বর কী হতে চলেছে, সেটা ওদের চোখ খুলে দেবে। মানুষই এবার ওদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।" (এএনআই)