হরিদ্বারে তীর্থ করতে গিয়ে দেশে চলা লকডাউনের ফলে সেখানে আটকে পড়েছেন অনেক বাঙালি তীর্থযাত্রী। গত পয়লা মে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক ও মানুষদেরকে ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালু করেছে রাজ্য সরকার। একাধিক রাজ্য উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা তাদের রাজ্যবাসীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছে।  কিন্তু হরিদ্বারে আটকে থাকা বাঙালিদের এখনও ফেরার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগই নাকি নেয়নি রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুললেন তীর্থযাত্রীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদিচ্ছার অভাবেই তাঁরা ফেসে রয়েছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করছেন আটকে থাকা বাংলার তীর্থযাত্রীরা।

৫৯ হাজার ছাড়িয়ে গেল আক্রান্তের সংখ্যা, দেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল হবে জুলাইতে

মলদ্বীপ থেকে অবশেষে ঘরের পথে ভারতীয়রা, দেখুন 'সমুদ্র সেতু' অভিযানের সেই ঝলক

করোনার চিকিৎসায় এবার দেশে ট্রায়াল শুরু ফ্যাভিপিরাভির, অনুমোদন মিলল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলের

দেশে চলা লকডাউনের কারণে হরিদ্বারে আটকে রয়েছেন এরাজ্যের প্রায় ৪৫০ জন বাঙালি তীর্থযাত্রী। ৪০ দিনেরও বেশি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়বনি। এবার তাই বিক্ষোভের পথেই নেমেছেন তাঁরা। গত কয়েকদিন ধরে হরিদ্বারের বিষ্ণুঘাট অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তীর্থযাত্রীরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগানও দিচ্ছেন তাঁরা।

তীর্থযাত্রীদের অভিযোগ শরণার্থীদের মত অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে তাঁদের দিন যাপন করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হরিদ্বারের জেলা পর্যটন আধিকারিক সীমা নৌটিয়ালের কাছে দরবার করে বাংলা সরকারের আগে আবেদনপত্রও পাঠিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সেই আবেদনপত্রের একনও কোনও উত্তর দেয়নি মমতার সরকার। 

তীর্থযাত্রীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে কোনও খোজও নেননি। নিজেদের যাতায়াতের খরত তীর্থযাত্রীরা নিজেরাই বহন করবেন জানানোর পরও বাড়ির ফেরর অনুমতি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তীর্থযাত্রীদের রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় উত্তরাখণ্ড সরকারও তাঁদের এগোতে দেয়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের জন্য তাঁরা নিঃখরচায় খাদ্য বিতরণ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন হরিদ্বারের রাজাকৃষ্ণ আশ্রমের প্রধান সতপাল ব্রহ্মচারী।