রাম মন্দির অনুদান তছরুপের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর অবস্থানের জেরে 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এর অন্দরে বড় ধরনের ঝড় উঠেছ। ট্রাস্টের সদস্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

রাম মন্দির অনুদান তছরুপের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর অবস্থানের জেরে 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এর অন্দরে বড় ধরনের ঝড় উঠেছ। ট্রাস্টের সদস্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান পরিচালনা ও তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়টি 'স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম' (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসার পর থেকেই চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। আর সেই প্রেক্ষাপটেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এসআইটি-র সুপারিশের ভিত্তিতে এই মামলায় ইতিমধ্যেই প্রথম এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহন এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন। প্রাক্তন ট্রাস্টি কামেশ্বর চৌপালের মৃত্যুর পর তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাস্টে যোগ দিয়েছিলেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এফআইআর দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মামলায় নাম থাকা আটজন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে। তাঁরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এফআইআরে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, চোরাই সম্পত্তি গোপন করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং যৌথ অভিপ্রায়ে অপরাধের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলি 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' এবং 'দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন'-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই এই বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে কথিত অনিয়মের তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন তিন সদস্যের একটি এসআইটি গঠন করে। সূত্রের খবর, এসআইটি-র প্রাথমিক তদন্তে একাধিক পর্যায়ে পদ্ধতিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীরা কর্মী যাচাইকরণে ঘাটতি, স্পর্শকাতর এলাকায় কর্মীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় অপর্যাপ্ত তল্লাশি, দুর্বল সিসিটিভি নজরদারি এবং মন্দির চত্বর থেকে ট্রাস্টের অফিস ও শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কে অনুদান জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তদন্তে অনুদান গণনার প্রক্রিয়াটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। সূত্রের ইঙ্গিত, অনুদান গণনায় বাইরের সংস্থার কর্মীদের (আউটসোর্সড কর্মী) কাজে লাগানো হয়েছিল এবং তাদের নিয়োগ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা সোনা, রুপো, গয়না এবং ভক্তদের দেওয়া অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন। কারণ ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকার সঙ্গে নথিপত্রের গরমিল লক্ষ্য করা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।