গোটা বিশ্বের যাবতীয় সমস্যার সমাধান একমাত্র ভারতের কাছেই আছে। নাগপুরে বিজয়াদশমীর অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, আজকের যুবসমাজ কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে, তার ফারাক বুঝতে পারছে না।
বিশ্বের নানা প্রান্তে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তার সমাধান একমাত্র ভারতের কাছেই আছে। এমনটাই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত।
'ভাগ হলেই দুর্বল হয়েছি আমরা'
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নাগপুরে বিজয়াদশমীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভাগবত। সেখানেই তিনি বলেন, আমরা (ভারতীয়রা) যখনই নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছি, তখনই দুর্বল হয়ে পড়েছি।
দেশের যুবসমাজ নিয়ে কী বললেন ভাগবত?
দেশের যুবসমাজের কথা বলতে গিয়ে ভাগবত জানান, আজকের নতুন প্রজন্ম নানা জায়গা থেকে তথ্য পায়। কিন্তু কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল, কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে—সেসব বাছবিচার না করেই তারা সব মেনে নেয়। এই প্রসঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য কড়া নিয়মকানুন তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
আরএসএস প্রধান বলেন, আজকের ছেলেমেয়েরা সবকিছু শিখতে চায়। আর সেই শেখার চোটে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেটা না বুঝেই সব জানতে চায়। এর খারাপ দিকগুলোর কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই অনেক দেশ সোশ্যাল মিডিয়া আর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ এনেছে। আমাদের সরকার ও প্রশাসনেরও এবার বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত।
একশো বছর ধরে 'স্ব'-কে জাগানোর কাজ করছে সংঘ
ভাগবত আরও বলেন, গত একশো বছর ধরে সংঘ 'স্ব' বা আত্মপরিচয় জাগিয়ে তোলার কাজ করে আসছে। ভারতের ইতিহাস ও পরিচয়ের শেকড়কে আঁকড়ে ধরে দেশকে একজোট ও শক্তিশালী করার একটা চেষ্টাই হল এই 'স্ব'। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রান্ত সংঘচালক তাঁর শুরুর কথাতেই 'পঞ্চ পরিবর্তন'-এর কথা বলেছেন। এর মানে হল 'স্ববোধ' (নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা) এবং 'স্বদেশী' (স্বনির্ভর জীবনযাপন) মেনে চলা। এই 'স্ব'-এর ধারণা আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনাতেও রয়েছে। সেখানে আমরা নিজেদের 'উই, দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া' (We, the People of India) বা 'আমরা, ভারতের জনগণ' বলে উল্লেখ করেছি।
মোহন ভাগবতের ভাষণের ভিডিওটি দেখুন:
এই একতার অনুভূতি, এই 'স্বত্ব' বা আবেগের বাঁধন আছে বলেই আমাদের এই বৈচিত্র্যময় দেশ প্রাচীনকাল থেকে একটা রাষ্ট্র, একটা সমাজ হিসেবে টিকে আছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা সবকিছুর মধ্যে একতা দেখার বিষয়টা খুব ভালো করে বুঝতেন। আর সেই বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা একটা পরিণত দর্শন তৈরি করেছিলেন। এর ফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আর আপনবোধ তৈরি হয়েছিল। ভাগবতের কথায়, যখনই আমরা এই বিষয়টা ভুলে গিয়েছি, ঠিক তখনই আমাদের পতন শুরু হয়েছে।








