ফিরতে চলেছে ১৮৭৭-এর স্মৃতি? শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর সুপার এল নিনো
বিশ্বজুড়ে ১৮৭৭ সালের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী 'সুপার এল নিনো' আসতে চলেছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত আরও শক্তিশালী হয়ে তাপপ্রবাহ, খরা এবং ফসলহানির কারণ হতে পারে।

১৮৭৭-র পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। আসছে এল নিনো। প্যানিশ এই শব্দের অর্থ ছোট ছেলে। নাম ছোট হসেও তার দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত হতে চলেছে বিশ্ববাসীর। ২০২৭ সালেই বিশ্বজুড়ে দাপট দেখানো এল নিনো।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে নাভিশ্বাস উঠে বিশ্ববাসীর, এমনই আন্দাজ সকলের। ২০২৬ থেকে ২৭ সালের মধ্যে সাধারণ এল নিনোর তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী হতে চলেছে এটি।
উষ্ণায়নের যে পথে এগোচ্ছে বিশ্ব তাতে অচিরেই তা সুপার এল নিনোতে পরিণত হবে। এটি একটি উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত যার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ায়। এটি মূলত হয় চিলি, পেরু-সহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশে। ডিসেম্বর নাগাদ এক প্রকার দক্ষিণমুখী উষ্ণ স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা ২ থেকে ৭ বছর অন্তর হয় এমন দুর্যোগ।
সেই সময় মহাসাগরের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি বেড়ে যায়। উপকূলবর্তী এলাকার বায়ুমণ্ডলও তেতে ওঠে। এই সময় মহাসাগরের পিঠের জল দ্রুত হারে গরম হয়ে যায়। ওই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে গরম জলের স্রোত ধেয়ে আসে মহাসাগরের পূর্ব দিকে।
এল নিনোর সময় পূর্ব উপকূলের সেই গরম জল তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় মহাসাগর সংলগ্ন স্থলভাগের বিভিন্ন দেশের বহু এলাকার। ওই সময় তলদেশ থেকে ঠান্ডা জল ওপরে উঠে আসে।
প্রশান্ত মহাসাগর নিয়ে গবেষণারত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক মডেল বিশ্লেষণ থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে ভারতীয়দের জন্য এল নিনো ঝুঁকিপূর্ণ। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতে।
১৮৭৭ সালে এমনই এক দুঃসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকে ছিল বিশ্ববাসী। তাপপ্রবাহ চরমে পৌঁছেছিল। এল নিনোর প্রবাবে বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ফসলহানি এবং দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। অসহ্য গরম আপ ফসলের অভাবে সেই সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। পুনরায় সেই ঘটনা ঘটতে চলেছে বলে আন্দাজ বিশেষজ্ঞের।
চমকপ্রদ তথ্য হল, বিশ্বের উষ্ণতম ২০টি শহরের মধ্যে ১৯টি ভারতে। একমাত্র নেপালের লুম্বিনি। বাকি ১৯টি স্থান পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশে। ৪৩-৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়েছে এপ্রিলেই।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯০০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরে সাত বার এল নিনোর সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু, ১৯৫১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এল নিনোর দেখা মিলেছে অন্তত ১৫ বার। এল নিনোর এই ১৫ বছরের মধ্যে ৯ বার ভারতে বর্ষাকালে পর্যান্ত পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম বৃষ্টি হয়েছে।
২০১৫ সালে খরায় শুকিয়ে গিয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু এলাকা। সে বথর সারা দেশে কম বৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৯ সালের এল নিনোও শক্তির নিরিখে যথেষ্টই ভয়াবহ। ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭২, ১৯৮২, ১৯৮৩ সালে। ওই বছরগুলোতেও পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে জন্মানো এল নিনো বড় প্রভাব পেলেছিল। ১৯৯২ সালে এর প্রভাব পড়েছিল ভারতে। ফের এমন খারাপ দিন আসতে পারে বলে আন্দাজ গবেষকদের।

