কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, 'ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি'। ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এই কথা যে কতটা সত্যি, তা ফের প্রমাণিত হল চন্দ্রযান ২ অভিযানকে ঘিরে। বিজ্ঞান সবকিছুকেই প্রশ্ন করে। প্রমাণ ছাড়া কোনও কিছুই মেনে নেয় না। আর ধর্ম হল প্রশ্নহীন বিশ্বাসের বিষয়। কাজেই এই দুই পথের মিলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটাই করে দেখাল ভারতবাসী। এইবার ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্স্থাপনের জন্য শুরু হল চন্দ্রদেবের পূজো।

গত শনিবার ভোরে চন্দ্রপৃষ্ঠে সফ্টল্যান্ড করার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। কিন্তু, তা সফল হয়নি। পরে ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানান চাঁদের মাটিতে বিক্রম অক্ষত অবস্থায় থাকলেও তা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নেই, একদিকে বেঁকে পড়েছে। যার ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিক্রমের সঙ্গে যাতে ইসরোর বিজ্ঞানীরা ফের যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য চন্দ্রদেবের হস্তক্ষেপ চেয়ে তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুরের এক মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হল।

থাঞ্জাভুরের থিঙ্গালুরে শ্রী কৈলাসনাথর মন্দিরটি আদতে শিব ঠাকুরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হলেও এই মন্দিরে চন্দ্রদেবেরও একটি বিগ্রহ রয়েছে। তানিলনাড়ুতে নয় গ্রহের জন্য নয়টি মন্দির রয়েছে তারই একটি এই শ্রী কৈলাসনাথর মন্দির। সেখানেই গত সোমবার থেকে চন্দ্রদেবের বিশেষ পুজো শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুন - মন্ত্রী জ্বলেছিলেন ঈর্ষায়, প্রথম পাকিস্তানি নভোশ্চর কিন্তু প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ইসরো-কে

আরো পড়ুন - চন্দ্রপৃষ্ঠে বিক্রমকে খুঁজে বেরাচ্ছে নেটিজেনরা, ফেক ছবিতে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

আরো পড়ুন - ১০ বছরের মধ্যেই চাঁদে কারখানা গড়বে ভারত, মিটবে জ্বালানীর চাহিদা, বড় দাবি ব্রহ্মস-বিজ্ঞানীর

আরো পড়ুন - চাঁদের পর শুক্রগ্রহ থেকে সূর্য, ইসরোর হাতে আগামী দিনে রয়েছে আরও বড় বড় অভিযানের পরিকল্পনা

প্রথমেই মধু ও চন্দনবাটা দিয়ে হয় 'অভিষেকম'। তারপর আগত ভক্তদের বিনামূল্যে খাইয়ে হয় 'অন্নদানম' আচার। মন্দিরের সেবাইত ভি কানন জানিয়েছেন, বিক্রমের সঙ্গে ইসরোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়ার পরই তাঁরা এই বিশেষ পূজার কথা ভাবেন। তাঁরা চান চন্দ্রদেবের হস্তক্ষেপে ফের ইসরোর সঙ্গে বিক্রমের যোগাযোগ স্থাপিত হোক। এই পুজো উপলক্ষ্যে মন্দিরে শত শত মানুষের জমায়েত হয়।

তবে সবাই চন্দ্রদেবকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়েই মন্দিরে আসছেন তা নয়। আগত দর্শনার্থীদের একজন জানিয়েছেন তিনি এই পুজোয় অংশ নিচ্ছেন ইসরোর বিজ্ঢানীদের প্রতি সংহতি জানাতে। বরাবরই যে মানুষকে চাঁদ কৌতূহলী করেছে, এই চন্দ্রদেবের মন্দিরই তার প্রমাণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগেও ভারতে ধর্ম ও বিজ্ঞানের রাস্তা মিলে মিশে গিয়েছে। প্রায় এক দশক আগে প্রথম চন্দ্রযানের উৎক্ষেপনের আগেও অভিযানকে সফল করতে বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। চন্দ্রযান ২ -এর উৎক্ষেপনের আগেও বিশেষ পুজার আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকী খোদ ইসরো প্রধান কে শিবনকেই উৎক্ষেপনের আগে ভারতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে পুজো দিতে দেখা গিয়েছিল। যা নিয়ে তাঁর সমালোচনাও কম হয়নি।