প্রাথমিক তদন্তে বিশাখাপত্তনমের প্রশাসন জানিয়েছে এলজি পলিমার ইন্ডিয়ার কারখানা থেকে নির্গত হয়েছে স্টাইরিন গ্যাস। কী এই স্টাইরিন গ্যাস? বিজ্ঞানের ভাষায় স্টাইরিন মূলত সিন্থেটিক রাসায়নিক। এটি ভিনাইলবেঞ্জিন, ইথেনাইলবেঞ্জিন  বা ফিনাইলথাইলিন নামে পরিচিত। এটি একটি বর্ণহীন তরল, যাকে খুব সহজেই বাষ্পীভূত করা যায়। 

অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন বন্দর শহর বিশাখাপত্তনমের কারখানা থেকে যদি স্টাইরিন গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে তবে তাকে হালকাভাবে গ্রহণ করা উচিৎ নয়। কারণ এটি একটি বিষাক্ত গ্যাস। যেকোনও মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের পক্ষে এতি অত্যান্ত ক্ষতিকর। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে যথেষ্ট ক্ষতি করতে সক্ষম স্টাইরিন গ্যাস। 

প্ল্যাস্টিক তৈরির জন্য খুবই পরিচিত এই গ্যাস। রীতিমত বিষাক্ত এই গ্যাস দাহ্যও বটে। তাই  এলজি পরিমার ইন্ডিয়ার কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে যেতে পারত যেকোনও মুহূর্তে। তাই এই গ্যাস নির্গমনকে কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয় বলেই মনে করছেন একদল বিশেষজ্ঞ।  

আরও পড়ুনঃ বিশাপত্তনমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, পাশে থাকার বার্তা প্রধানমন্ত্রী ও রাহুল গান্ধীর ...

এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন এই গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরের ভিতরে  গেলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। পাশাপাশি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমেও ব্যাঘাত ঘটে। চোখের ক্ষতি করতে সক্ষম এই গ্যাস। ক্ষতি হতে পারে গলারও। নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ত্বকের। অসুস্থ অনেক ব্যক্তি চোখে জ্বালা আর অসহ্য় শ্বাস কষ্ট নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসান। অনেক অসুস্থই আবার দাবি করেছেন তাঁদের ত্বক জ্বলে গিয়েছিল। অনেকের ত্বকে মলিনত্বের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্টাইরিন গ্যাস ফুসফুসেরও ক্ষতি করতে সক্ষম বলেই আশঙ্কা করেছেন অনেক চিকিৎসক। 

আরও পড়ুনঃ ভারী বাতাস, ঝাঁঝালো গন্ধ আর চোখ জ্বালা করা, একরাশ আতঙ্ক আর অস্বস্তি নিয়েই বেরিয়ে পড়েছিলেন ওঁরা ...

স্টাইরিন গ্যাসের স্বল্পকালীন মেয়াদে চোখ, ত্বক হজম শক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখা দিতে পারে। রক্ত ও ত্বকের ক্যান্সারের মুখোমুখী হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। তেমনই জানিয়েছেন এক চিকিৎসক। প্রজনন ও বিকাশজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলেও মনে করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

আরও পড়ুনঃ বিশাখাপত্তনমের রাসায়নিক কারখানার গ্যাসকাণ্ড দুর্ঘটনা না নাশকতা, তথ্য খুঁজছে প্রশাসন ...

স্টাইরিন গ্যাস মূলত প্ল্যাস্টিক, রবার সিন্থেটিক তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতি থেকেও পাওয়া যায় স্টাইরিন গ্যাস। ফল, সবজি, মাংস, চিনাবাদাম, মটরশুটি, কফিতেও থাকে স্টাইরিন গ্যাস তবে তা তেমন ক্ষতি করে না।