'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR)-এর বৈধতা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার জানিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাওয়া মানেই তাঁর নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছে যে, SIR প্রক্রিয়া নাগরিকত্ব নির্ধারণের কোনও প্রক্রিয়া নয়।

'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR)-এর বৈধতা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার জানিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাওয়া মানেই তাঁর নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছে যে, SIR প্রক্রিয়া নাগরিকত্ব নির্ধারণের কোনও প্রক্রিয়া নয়। বরং এটি একান্তভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতার যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই রায়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আবেদনকারী এবং বিরোধী পক্ষ যুক্তি দেখিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশন পরিচালিত এই SIR প্রক্রিয়াটি মূলত পেছনের দরজা দিয়ে বা পরোক্ষভাবে নাগরিকত্ব যাচাইয়েরই একটি প্রচেষ্টা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে

নির্বাচন কমিশন (ECI) আদৌ নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে কি না—এই বৃহত্তর প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। আদালত জানিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করতে পারে ঠিকই, তবে তা কেবল ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কি হবে না—এই সীমিত দৃষ্টিকোণ থেকেই করা সম্ভব। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, "কমিশন চাইলে কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওই ব্যক্তি আর ভারতের নাগরিক নন। নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।" সারকথা হলো SIR প্রক্রিয়ার অধীনে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাওয়া মানেই তিনি তাঁর নাগরিকত্ব হারাবেন—এমনটা নয়।

আদালত নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার পরিধিও স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে

প্রধান বিচারপতি (CJI) তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, "ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো একটি সীমিত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অর্থবহ অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এ ধরনের অনুসন্ধানকে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা যাবে না।"

SIR সংক্রান্ত বিতর্ক

SIR প্রক্রিয়ার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদনের প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট এই রায়টি দিয়েছে। এই SIR প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভোটারের নাম ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় অনুপস্থিত ছিল, তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হলে এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বংশগত বা পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দাখিল করতে হত, যাঁর নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত বছরের জুন মাসে বিহারে নির্বাচন কমিশন যখন প্রথম এই SIR প্রক্রিয়াটি চালু করে, তখন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল এবং তামিলনাড়ু-সহ দেশের আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে এসআইআর হয়। বর্তমানে দেশের ১৬টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR প্রক্রিয়ার তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপের কাজ চলছে।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই প্রক্রিয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে যে, ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত ও পরিশুদ্ধ করা এবং নাগরিকত্বের দাবিগুলো যাচাই করার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে, আবেদনকারীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার বা ক্ষমতার আওতাভুক্ত নয়।

তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলো কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে

বুধবার, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সন্দেহজনক নাগরিকত্বের কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে, যাতে তাদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যায়। প্রধান বিচারপতি (CJI) বলেন, "নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, এই ধরনের মামলাগুলো চার সপ্তাহের মধ্যে 'নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫'-এর অধীনে গঠিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে, যাতে তাদের নাগরিকত্বের দাবিগুলো যাচাই ও নির্ধারণ করা যায়।" আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অথবা স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন—এই দুটির মধ্যে যেটি আগে অনুষ্ঠিত হবে, তার আগেই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। আদালত আরও জানায় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই নোটিশ জারি করতে হবে এবং তাঁদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে যে, যদি কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখে যে তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে দেশের নাগরিক, তবে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অবশ্যই পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।