সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত একইসঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার অধিকার ভোটারদের একটি নিরবচ্ছিন্ন অধিকার এবং নির্বাচন পরিচালনার চাপের কারণে এই প্রক্রিয়াটি কোনওভাবেই ব্যাহত বা বিকৃত হওয়া উচিত নয়।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত একইসঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার অধিকার ভোটারদের একটি নিরবচ্ছিন্ন অধিকার এবং নির্বাচন পরিচালনার চাপের কারণে এই প্রক্রিয়াটি কোনওভাবেই ব্যাহত বা বিকৃত হওয়া উচিত নয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এমন কিছু ভোটারের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি করছিল, যাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। পিটিশনাররা ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার (freezing) নির্ধারিত সময়সীমা বা 'কাট-অফ ডেট' বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হল যদি তাঁদের আপিলগুলো সফল হয়, তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ তাঁদের দেওয়া উচিত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকাটি গত ৯ এপ্রিলের পরিস্থিতি সাপেক্ষে চূড়ান্ত বা 'ফ্রিজ' করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, "ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার অধিকার ভোটারদের একটি নিরবচ্ছিন্ন অধিকার। যে দেশে আপনি জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশের ভোটার হিসেবে বহাল থাকার অধিকারটি কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকারই নয়, বরং এটি একটি আবেগিক অধিকারও বটে। আমাদের এই অধিকারটি রক্ষা করতে হবে। আসন্ন নির্বাচনের ডামাডোল ও উত্তেজনার ধুলোঝড়ে আমরা অন্ধ হয়ে যেতে পারি না।"

শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ব্যাপারে কিছুটা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মন্তব্য করেন যে, বিচারাধীন আপিলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ট্রাইব্যুনালের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে পিটিশনারদের আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন (ECI) আপিল প্রক্রিয়ায় যথাযথ সহযোগিতা করছে না। এদিকে, বিচারপতি বাগচি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

শুনানি চলাকালীন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়ায় (SIR) বেশ কিছু পদ্ধতিগত বিচ্যুতির দিকেও ইঙ্গিত করে। আদালত উল্লেখ করে যে, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে একটি নতুন বিভাগ বা বর্গ চালু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে "যৌক্তিক অসঙ্গতি" (logical discrepancy)। আদালত মন্তব্য করে, "দেখুন, আপনাদের চূড়ান্ত তালিকায় আপনারা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সদস্যদের বাদ দেননি। যখন বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল, তখন নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানানো হয়েছিল যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সদস্যদের নতুন করে কোনও নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দয়া করে বিহার সংক্রান্ত মামলায় আপনাদের লিখিত বক্তব্যটি একবার দেখে নিন। সেখানে আপনারা নিজেরাই বলেছিলেন যে, ২০০২ সালের ভোটারদের নতুন করে কোনও নথিপত্র জমা দিতে হবে না।"

বিচারপতি বাগচি আরও উল্লেখ করেন যে, "আপিল নিষ্পত্তির বিশাল পরিধির কথা বিবেচনা করলে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারাও হয়ত অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকতে পারে। আপনি যদি দিনে ১,০০০টি নথিপত্র যাচাই করেন এবং সেগুলোর নির্ভুলতার হার ৭০ শতাংশ হয়, তবে সেই কাজটিকে চমৎকার হিসেবেই গণ্য করা উচিত। সুতরাং, ভুলের কিছু অবকাশ থেকেই যাবে। আর তাই আমাদের একটি শক্তিশালী আপিল ফোরাম প্রয়োজন।"