নিজের পছন্দে এক যুবককে ভালবেসে ভালবেসে ছিল ২০ বছরের এক তরুণী। সেই ছেলে আবার ভিনজাতের হওয়ায় মেনে নিতে পারেনি বাব-মা। এর পরে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে জানতে পেরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল বাড়ির অভিভাবকদের। তাই মেয়ের ওপর জোড় খাটানো চলতে থাকে গর্ভপাত করানোর। আর তাতে যুবতী মেয়ে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ করে খুন করা হল। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির উঠেছে বাবা-মার দিকেই।

আরও পড়ুন: সোপিয়ানে সাত সকালে ফের জঙ্গি নিধন সেনার, এই নিয়ে গত ২ সপ্তাহে কাশ্মীরে নিকেশ ২৪ আতঙ্কবাদী

পারিবারিক সম্মানরক্ষার্থে খুনের কথা আগে একাধিকবার শোনা গিয়েছে উত্তর ভারতে। এবার অনার কিলিং-এর ছাড়া দেখা গেল তেলেঙ্গনায়। জানা যাচ্ছে, ২০ বছরের এই তরুণী তেলেঙ্গনার কুরনুলের কলেজে পড়াশোনা করতেন। হস্টেলেই  থাকতেন। লকডাউনে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। তখনই মেয়ের অন্য জাতের পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পারে মা-বাবা। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তারা। তার ওপর তারা জানতে পারেন, তাদের মেয়ে গর্ভবতী। পরীক্ষায় জানা যায় তরুণী ১৩ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। এরপরেই গর্ভপাত করাতে বাবা মায়ের চাপ শুরু হয়। সেই অসহ্য মানসিক চাপ মেনে নিয়েও শিশুটির জন্ম দিতে চেয়েছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু তাঁর সেই সাধ অপূর্ণই থেকে গেল। ভালবাসার অপরাধে বাবা-মায়ের হাতেই খুন হতে হল তাঁকে।

আরও পড়ুন: লকডাউন সাপে বর হল, আম আদমির খিদে মিটিয়ে গত ৮ দশকে প্রথমবার রেকর্ড বিক্রি ভারতীয় বিস্কুট সংস্থার

অভিযোগ, তেলেঙ্গনার  জগুলম্বা-গড়ওয়াল জেলার কালুকুন্তলা গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণীকে হত্যা করে তাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই চালানোর চেষ্টা করে বাবা-মা। পুলিশের কাছে দাবি করা হয়, তাঁদের মেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। যদিও, শেষরক্ষা হয়নি। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন গ্রামের সচিব। নিহতের দেহে কয়েকটি আঘাত ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সন্দেহ জাগে পুলিশেরও।

পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেত সন্দেহের তির যায় তরুণীর বাবা-মার দিকেই। ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তই এই খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা যাচ্ছে। নিহত তরুণী ওই দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গর্ভপাতে মেয়ে রাজি না হওয়ায় চলতি মাসের ৭ তারিখ সকালে ঘরের মধ্যেই মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে হত্যা করে বাবা ও মা।