প্রথমত, রাম রাজ্যে কেন সীতার পাতাল প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র। দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। 

তৃণমূল (TMC) মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা রুজু হল ত্রিপুরায় (Tripura)। তাঁর দুটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অমরপুর ও ওম্পি থানার তরফে কুণালকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই মামলার তদন্তের জন্য তাঁকে তলব করেছে ত্রিপুরা পুলিশ (Tripura Police)। ত্রিপুরায় তৃণমূলকে আটকানোর জন্যই বিজেপি (BJP) এই পদক্ষেপ করছে বলে দাবি করেছেন কুণাল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী মন্তব্য করেছিলেন কুণাল? প্রথমত, রাম রাজ্যে কেন সীতার পাতাল প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র। দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। ভোটের প্রচারে ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন কুণাল। অভিযোগ, সেই প্রচারসভা থেকে রামায়ণ (Ramayana) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। বলেছিলেন, “রামরাজ্যে সীতাকে পাতালে প্রবেশ কেন করতে হয়েছিল? কেন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল সীতাকে?” রামায়ণের রামরাজত্বের যুগে মহিলাদের নিরাপত্তা ছিল না বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এর পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। তৃণমূলের এ ধরনের মন্তব্য স্থানীয়দের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ। এর পরই ত্রিপুরার তিনটি থানা অমরপুর (Amarpur), ওম্পি এবং নতুন বাজারে কুণালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই সূত্র ধরে তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁকে ত্রিপুরায় তলব করা হয়েছে। এর আগে পশ্চিম থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির সম্পর্ক একেবারেই ভালো নয়। আর এই নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে সেই আগুনে ঘি পড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

আরও পড়ুন- সভা ঘিরে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভাঙড়, জখমদের দেখতে হাসপাতালে নওশাদ

এই তিনটি নোটিসের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ বলেন, "ত্রিপুরায় রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে বিজেপি। ভয় পাচ্ছে ওরা। তাই এত হামলা-মামলা।" এরপরই তাঁর প্রশ্ন, "বিজেপি রাম রাজত্ব, রামায়ণ নিয়ে সারাদিন চেঁচাতে পারে। আর আমরা রামায়ণ নিয়ে কথা বললেই ভুল? তাহলে আদালত ঠিক করে দিক রামায়ণের কোনও অংশ নিয়ে কথা বলা যাবে, আর কোনটা নিয়ে নয়। ত্রিপুরার পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। সাধারণত নোটিশ পেলে আমি সশরীরে হাজিরা দিই। এবারও যাব।"

আরও পড়ুন- মোদীকে চিঠি দিয়ে বিজেপি ছাড়লেন, ‘অভিমানী’ জয় বন্দ্যোপাধ্যায় কি এবার তৃণমূলের পথে

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় পুরনির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তৃণমূল। প্রথমবার আগরতলায় পুরনির্বাচনে লড়াই করছে তারা। ৩ নভেম্বর পুরভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রতিশ্রুতি মতো ৫১টি আসনেই তারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২৫টি আসনেই রয়েছেন মহিলা প্রার্থী। পুরনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন যুব তৃণমূল নেতা বাবলু চক্রবর্তী। ‘বিক্ষুব্ধ’ বিজেপি নেতা সুধীর রায় বর্মণ ঘনিষ্ঠ শ্যামল পালও প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর পান্না ঘোষকেও টিকিট দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

আরও পড়ুন- দিলীপ ঘোষকে 'গুরুত্ব দিই না', দ্বন্দ্ব জারি রাখলেন তথাগত

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই অভিষেকের (Abhishek Banerjee) সফরের আগেই ফের চাপান-উতোর শুরু হয়ে গিয়েছিল ত্রিপুরায় (Tripura)। কুণালের ওই মন্তব্যের জেরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে বিজেপি। তার দেরে গত শনিবারই তাঁকে থানায় তলব করা হয়। আর এবার তাঁর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হল। 

YouTube video player