Asianet News BanglaAsianet News Bangla

Tripura Civic Elections: বিজেপি ৩২৯, সিপিএম ৩, তৃণমূল ১ - ত্রিপুরায় অটুট গেরুয়া-রাজ

ত্রিপুরার নাগরিক নির্বাচনে (Tripura Municipal Elections 2021) জয়জয়কার বিজেপিরই (BJP)। সিপিআইএম (CPIM) জিতেছে মাত্র ৩ টি আসনে আর তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং টিপ্রা মোথা (Tipra Motha) একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। 

Tripura Civic Elections 2021, BJP wins 329 of 334 seats, CPIM 3, TMC 1 ALB
Author
Kolkata, First Published Nov 29, 2021, 4:51 AM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

ভোটের আগে যতই হাওয়া গরম করুক তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), ত্রিপুরার নাগরিক নির্বাচনে (Tripura Municipal Elections 2021) শেষ পর্যন্ত জয়জয়কার হল বিজেপিরই (BJP)। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বের পরিবেশের মধ্যে গত ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরার মোট ২২২ টি নাগরিক সভার আসনে ভোট হয়েছিল। রবিবার শেষ ফল বের হওয়ার পর দেখা গেল, তারমধ্যে ২১৭ টি আসনে জয়ী হয়েছেন রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থীরাই। যাদের হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি, সেই সিপিআইএম (CPIM) জিতেছে মাত্র ৩ টি আসনে। আর তৃণমূল কংগ্রেস এবং টিপ্রা মোথা (Tipra Motha) একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। 

আগরতলা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (Agartala Municipal Corporation) ৫১ টি ওয়ার্ড এবং আরও ১৩ টি পৌরসভা এবং ৬ টি নগর পঞ্চায়েত মিলিয়ে মোট ৩৩৪ টি আসনে নির্বাচন ছিল। তার মধ্যে ১১২ টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। গত ২৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হয়েছিল বাকি ২২২টি আসনে। সব মিলিয়ে ৩৩৪ আসনের ৩২৯ টিরই রং হল গেরুয়া। আগরতলা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনে তো কোনও প্রতিপক্ষই নেই। ৫১টি ওয়ার্ডই বিজেপির ঘরে গিয়েছে।

আরও পড়ুন - Abhishek Banerjee- ত্রিপুরায় তৃণমূল নিজের ক্ষমতা বুঝিয়েছে,আশাবাদী অভিষেক

আরও পড়ুন - Tripura Polls: পরাজয় হয়েছে সন্ত্রাসের কাছে, ত্রিপুরায় তৃণমূলের ভরাডুবির প্রসঙ্গে বিজেপিকে তোপ সৌগতর

আরও পড়ুন - Tripura Polls: বিজেপি বলছে সান্ত্বনা পুরষ্কার, ১৬ ওয়ার্ডে দ্বিতীয় হয়ে ২৩-র ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত তৃণমূল

ধলাই (Dhalai) জেলার আম্বাসা নগর পঞ্চায়েত, ত্রিপুরা উত্তর জেলার (Tripura North) পানিসাগর নগর পঞ্চায়েত এবং ঊনকোটি জেলার (Unakoti district) কৈলাশহর পৌরসভার একটি করে আসনে জয় পেয়েছে সিপিআইএম। অন্যদিকে আমবাসায় (Ambasa) একটি আসনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আঞ্চলিক দল টিপরা মোথাও ওই একই পৌরসভায় একটি আসনে জয় পেয়েছে।

নাগরিক সভার ভোটে এই দুর্দান্ত জয়ের পর বিজেপির ত্রিপুরা রাজ্য শাখাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। টুইট করে তিনি বলেছেন, ত্রিপুরা বিজেপির (Tripura BJP) কার্যকর্তা, যারা দিনের পর দিন মাটিতে পড়ে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং মানুষের সেবা করেছেন, তাঁদের তিনি অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এর আগে বহু ক্ষেত্রে ত্রিপুরার বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) সমালোচনা করলেও, এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসাই করেছেন। টুইটে বলেছেন, বিপ্লব দেবের সরকার বেশ কিছু উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, যে কারণেই জনগণ বিজেপিকে যথাযথভাবে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই ভোটের ফলে ত্রিপুরার জনগণ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সুশাসনের রাজনীতি পছন্দ করেন। তাঁদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের জন্য ত্রিপুরার জনগণকেও প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জনগণের এই আশীর্বাদ, বিজেপিকে আরও বেশি করে জনকল্যানমূলক কাজ করার শক্তি দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

প্রচুর ঢাকঢোল পিটিয়ে ত্রিপুরা জয়ের স্বপ্ন দেখালেও, নাগরিক নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১টিই আসন জুটেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলের মনোবল পুরোপুরি অটুট।  তৃণমূল বলছে, খেলা সবে 'শুরু' হল। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) টুইট করে বলেছেন, তুচ্ছ উপস্থিতি থেকে শুরু করে পৌরসভা নির্বাচনে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাঁরা। ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায়, তাঁরাই এখন উত্তরপূর্বের এই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বলেও দাবি করেছেন তিনি। এটাকে ব্যর্থতা নয়, বরং ব্যতিক্রমী সাফল্য বলে বর্ণনা করেছেন অভিষেক। মাত্র ৩ মাসের প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য এসেছে বলেছেন তিনি। সেইসঙ্গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ত্রিপুরায় গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগও এনেছেন তৃণমূল নেতা। 

বস্তুত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগেই এই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি করা হয়েছিল। ঘাসফুল শিবির অভিযোগ করেছিল, ক্ষমতাসীন বিজেপির এই ভোটে 'প্রচুর কারচুপি' করেছে এবং নির্বাচন 'প্রহসনে পরিণত হয়েছে'। সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও আগরতলার পাঁচটি ওয়ার্ডে একই ধরণের দাবি করা হয়েছিল। ভোটের আগে থেকেই, সামান্য নাগরিক সভার নির্বাচন নিয়েও রাজ্যে দেখা গিয়েছিল বেনজির হিংসা। ভোটের দিনও অভিযোগের কমতি ছিল না। ভোটগ্রহণের মধ্য়েই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিতে হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court of India)। গণনার দিনও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ত্রিপুরা রাজ্য রাইফেলস (Tripura State Rifles) এবং কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর (CRPF) হাজার হাজার কর্মীকে মোতায়েন করতে হয়েছে।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios