বুধবার ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মদিবস। আর এই দিন থেকেই নরেন্দ্র মোদী সরকার প্লাস্টিকমুক্ত ভারত অভিযান শুরু করছে। নিষিদ্ধ করা হচ্ছে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও তা দিয়ে তৈরি দ্রব্যাদি। তবে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ মানে সব প্লাস্টিকের জিনিসই নিষেধের তালিকায় ঢুকে যাচ্ছে তা নয়। এই নিয়ে জনমানসে বেশ ধন্দ তৈরি হয়েছে। এক নজরে দেকে নেওয়া যারক কাকে বলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, এবং প্লাস্টিকের তৈরি কী কী জিনিস পড়ছে বাতিলের খাতায়, আর কী কী জিনিস এরপরেও ব্যবহার করা যাবে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কী?

এর কোনো প্রকৃত সংজ্ঞা হয় না। তবে মোটামুটিভাবে বলা যেতে পারে প্লাস্টিকের তৈরি যে যে জিনিস, একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়ার জন্য় তৈরি হয়, যেমন বিভিন্ন জিনিসের প্যাকিং-এর জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক, প্লাস্টিকের ছোট জলের বোতল, চায়ের কাপ, খাবারের প্লেট, স্ট্র-এর মতো জিনিসগুলিকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বলা হয়।

কী কী প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ হচ্ছে?

২০০ মিলিলিটারের ছোট প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের মিনারেল ওয়াটারের পাউচ, হাতল বা হাতল ছাড়া প্লাস্টিক ব্যাগ, থার্মোকল বা প্লাস্টিকের কাপ, প্লেট, চামচ, কাঁটাচামচ, স্ট্র, বোল, খাবার প্যাক করার কন্টেনার, কম্পোসিটেবল পলিথিন ব্যাগ, ডেকরেশনের জন্য ব্যবহৃত থার্মোকলের পণ্য ইত্যাদি।

কী কী প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ নয়?

কম্পিউটার, পেন ড্রাইভ, এয়ার কন্ডিশনার-এর মতো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট-কে নিশিদ্ধ করা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শক্ত প্লাস্টিকের অতিরিক্ত উত্পাদন কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে। এছাড়া ২০০ মিলিটারের থেকে বড় আকারের জলের বোতল, রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কভার, শস্য ও অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য রাখার জন্য ব্যবহৃত ২০ মাইক্রনের বেশি পুরু প্লাস্টিকের ব্যাগ, গাছের চারা বহনের জন্য ব্যবহৃত কম্পোসিটেবল প্লাস্টিক ব্যাগ, প্লাস্টিকের দুই পরত দেওয়া কাগজের কার্টন, ৫০ মাইক্রনের থেকে পুরু দুধের প্যাকেট, মোটা পরতের চিপস, শ্যাম্পু, তেল চকোলেটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বালতি-গামলা, তেল-শ্যাম্পুর শিশি, ওষুধ প্যাকিং -এ ব্যবহৃত প্লাস্টিক, মৎস ব্যবসা ব্যবহৃত থার্মোকলের বাক্স, প্লাস্টিকের স্টেশনারি পণ্য, রেইনকোট ইত্য়াদি।

নিষেধ না মানলে কী সাজা হবে?

সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে মোটা জরিমানা দিতে হবে। প্রথমবার অপরাধের জন্য জরিমানা করা হবে ৫০০০ টাকা। দ্বিতীয়বার আইন ভাঙলে জরিমানার পরিমান বেড়ে হবে ১০০০০ টাকা। আর তৃতীয়বার আইন ভেঙে ধরা পড়লে ২৫০০০ হাজার টাকা জরিমানার সঙ্গে তিন মাসের জেলও হবে।