হনুমানগড়িতে পুজো দিয়ে অযোধ্যায় মাছের ভোজসভায় যোগ দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি এই ঘটনাকে 'দ্বিচারিতা' বলেছেন। যদিও অজয় রাই এই অভিযোগ অস্বীকার করে যোগীকে ছবি দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রাইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। অযোধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে অজয় রাইয়ের মাছ খাওয়ার অভিযোগ নিয়ে যোগী বলেন, কংগ্রেস নেতার এই আচরণ আসলে 'দ্বিচারিতা'। হনুমানগড়িতে পুজো দেওয়ার পরেই তিনি এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে মাছ রান্না হয়েছিল। রায়বরেলিতে এক জনসভায় যোগী এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের রাজনৈতিক আচরণ এবং ধর্ম ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেন। যোগী বলেন, "আপনারা কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির আচরণ দেখেছেন। তিনি হনুমানগড়িতে পুজো দিতে যাচ্ছেন, কিন্তু বাইরে বেরিয়েই মাছের ভোজে যোগ দিচ্ছেন। অযোধ্যা ছাড়া অন্য কোথাও তিনি যা খুশি খেতেই পারতেন। কিন্তু এটাই ওদের দ্বিচারিতা।"

অজয় রাইকে 'গিরগিটি' বলে কটাক্ষ যোগীর

অজয় রাইকে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এদের দেখে গিরগিটিও লজ্জা পেয়ে যাবে। ভাববে, এ কেমন মানুষ—মন্দিরের ভেতরে 'রাম-রাম' জপ করছে, আর বাইরে বেরিয়েই মাছ খাচ্ছে।"

অতীতের প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ

যোগী এই ঘটনাকে কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিফলন বলে বর্ণনা করেন। তিনি এক মাফিয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া পুরনো একটি ঘটনার প্রসঙ্গে অজয় রাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "যখন এক মাফিয়া ডন তার ভাইকে খুন করেছিল, তখন এই ব্যক্তি অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেননি। উল্টে তার সামনে মাথা নত করেছিলেন।"

যোগী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত মাফিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি বলেন, "যখন সরকার আসরে নেমে সেই মাফিয়াকে শেষ করে দিল, তখনই পরিস্থিতি বদলাল। নাহলে এই লোকগুলো তো রাজ্যটাকে মাফিয়াদের আখড়া বানিয়ে ফেলেছিল, একটা পরিচয়ের সংকট তৈরি করেছিল।"

অভিযোগ উড়িয়ে প্রমাণ চাইলেন অজয় রাই

অযোধ্যায় নিষাদ সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে অজয় রাই যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে মাছ খাওয়ার অভিযোগ নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং বিজেপি ও কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনার জবাবে অজয় রাই এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন এবং যোগীকে ছবি দেখিয়ে প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান। রাই বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী সমালোচনা করছেন, কিন্তু ওনার কাছে কি কোনও ছবি আছে? যদি তিনি কোনও ছবি দেখাতে পারেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে ইস্তফা দিতে রাজি।"

অযোধ্যার অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বলেন, নিষাদ সমাজ তাঁকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। রাই বলেন, "কাল নিষাদ সমাজ আমাকে অযোধ্যার একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়। ওরা যদি সেখানে মাছ রান্না করে থাকে, সেটা ওদের ব্যাপার। আমি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফিরে এসেছি।"

এই বাকবিতণ্ডা উত্তরপ্রদেশে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে চলা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখানে আবারও ধর্মীয় প্রতীক এবং রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।