১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত যোগ্য দেশের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভাল (VoA) পরিষেবা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের জন্য এই পদক্ষেপটিকে একটি নিরাপত্তা সতর্কতা হিসাবে দেখা হচ্ছে।

সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোটের আগে বাংলাদেশ ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভিসা অন অ্যারাইভাল (VoA) স্থগিত করেছে। ভুটান এবং নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির নাগরিকরা বাংলাদেশ থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পেতেন। তবে, সেই ব্যবস্থা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দেশগুলির সরকারকে জানানো হয়েছে।

ভিসা স্থগিতের বিবরণ এবং কারণ

বাংলাদেশ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের জন্য বাংলাদেশ অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদান স্থগিত রাখবে। এটি সেই সমস্ত দেশের জন্য প্রযোজ্য যারা সাধারণত বাংলাদেশ থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পেয়ে থাকে। যদিও তিনি এই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্টভাবে জানাননি, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে এবং প্রধান দলের নেতারা সমাবেশ করার জন্য সারা দেশে ভ্রমণ করবেন, তাই সরকার সম্ভবত সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে এবং নির্বাচনী সময়কালে যেকোনো সম্ভাব্য হিংসা রোধ করতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতীতেও নির্বাচনের সময় এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশ ভারতে অবস্থিত তার প্রধান মিশনগুলো থেকেও ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং কিছু সংস্কারের উপর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোটের আগে, বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনা সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে। সেনাবাহিনী ছাড়াও, পুলিশ বাহিনীকেও তাদের দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।