কফিনে ঢোকানোর আগে দেহের পচন রোধ করতে অনেক সময়ই কোনও মৃতদেহ থেকে রক্ত বের করে নেওয়া হয়। মর্গে সেই কাজটাই করছিলেন এক কর্মী। কিন্তু, মৃতদেহের পা কেটে রক্ত বের করতে যেতেই সেই মৃত ব্যক্তি পরিত্রাহি চিৎকার করে উঠলেন। আর তা শুনে ভুতের ভয়ে চম্পট লাগালেন সেই কর্মী। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও সম্প্রতি ঠিক এমনটাই ঘটেছে কেনিয়ায়।

দীর্ঘদিন ধরেই পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন ৩২ বছরের পিটার কিগান। সম্প্রতি সেই সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর পরিবার এনেছিল কেরিকো শহরের এক হাসপাতালে। কিছুক্ষণ পর ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিগেনের ভাই-কে এক নার্স সেই দুঃসংবাদ দিয়েছিসল। তারপর, তাঁর সম্মতি নিয়ে মৃতদেহের পচন রোধের জন্য কিগেনের 'মরদেহ' নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মর্গে। আর সেখানেই ঘটে ওই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

আরও পড়ুন - করোনা-র উৎস কি তবে ভারতে, ২০১৯'এর গ্রীষ্মেই শুরু সংক্রমণ - বিশ্বজুড়ে হইচই

আরও পড়ুন - ভারতে ক্রমেই কমছে করোনায় মৃত্যুর ভয়, সোমবার ৯৪ লক্ষ ছাড়ালো মোট রোগীর সংখ্যা

আরও পড়ুন - মর্গে পা কাটতে যেতেই চিৎকার করে উঠল 'মরা', ভুতের ভয়ে পালালেন লাশকাটা ঘরের কর্মী

প্রাথমিক ভাবে মরা জেগে ওঠার ভয়ে মর্গের ওই কর্মী পালালেও, একটু পরেই তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই ঘটনা জানান। এরপরই কিগেন-কে দ্রুত মর্গ থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিত্সায় দেখা নিশ্চিত হয়, তাঁর মৃত্যু হয়নি, তিনি অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। মর্গে ওই কর্মী যখন তাঁর শরীর থেকে রক্ত ​​বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। আর চেতনা ফিরতেই পায়ে ধারালো ছুরির চাপে প্রচন্ড ব্যথায় তিনি চিৎকার করে উঠেছিলেন।

পিটার কিগেনের ভাই স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর। একজন জীবিত ব্যক্তিকে ডাক্তাররা কীভাবে মৃত বলে ঘোষণা করলেন সেটাই তাঁর মাথায় ঢুকছে না। হাসপাতালের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি মামলা করছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, এইভাবে তিনি জীবন ফিরে পেয়েছেন, তা  বিশ্বাসই করতে পারছেন না পিটার কিগেন। তাঁর মতে ঈশ্বরই তাঁর জীবন রক্ষা করেছেন। তাই বাকি জীবন ঈশ্বরের সেবা করেই কাটাবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি।