চিনের এক পাহাড়ি অঞ্চলে শোনা যাচ্ছে অদ্ভুত শব্দ আর প্রচুর লোক জড়ো হয়েছেনএরকমই একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়দাবি করা হচ্ছে চিনের পাপের সাজা দিতে জেগে উঠেছে  ড্রাগনসত্যিই কি তাই, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে অন্য কোনও রহস্য

পাহাড়ি অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে অদ্ভুত শব্দ। আর তাকে কেন্দ্র করে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। চিনের গুইঝো প্রদেশের এরকমই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই দাবি করেছেন ওই অঞ্চলে কয়েকদিন আগেই একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরই ওই 'ড্রাগনের গর্জন'এর মতো ভয়ঙ্কর শব্দ শোনা যাচ্ছে। ওই এলাকার মানুষ এবং বেজিং-এর কর্মকর্তারাও ওই 'রহস্যময় জীব'-কে খুজতে পারি দিয়েছে ওই পাহাড়ে। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে এক ব্যক্তির কণ্ঠস্বর রয়েছে। সেই কন্ঠস্বর একে একটি আসন্ন বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বলে দাবি করে এর জন্য চিনের কমিউনিস্ট পার্টির 'পাপ'-কে দায়ী করেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিন মিনিটের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু প্রশ্ন হল ঘটনাটা কি সত্যি? সত্য়িই কি চিনের ওই এলাকায় ওইরকম ভয়ঙ্কর শব্দ শোনা যাচ্ছে? যদি সেই শব্দটি সত্যি হয়, তাহলে ওই শব্দটি কিসের? ড্রাগন কি তাহলে কাল্পনিক প্রাণী নয়, সত্যিই এরকম কোনও রাক্ষুসে প্রাণী লুকিয়ে রয়েছে চিনের মূল ভূখণ্ডে?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে দেখা যায় ভিডিওটি দারুণভাবে এডিট করা। তবে এইরকম একটা ভয়ঙ্কর শব্দ চিনের ওই এলাকার পাহাড় থেকে আসার খবর প্রকাশিত হয়েছিল 'এক্সপ্রেস ডট কম ডট উইক' এবং 'দ্য সায়েন্স টাইমস'-এ। সেই প্রতিবেদন অনুসারে গত ২০ জুন স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রথমবার চিনের ওই পাহাড়ি এলাকায় ওই অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। 'এক্সপ্রেস ডট কম ডট উইক'-কে এক সাক্ষাতকারে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রতি ছয়-সাত মিনিট অন্তর অন্তর দুই থেকে তিনবার করে ওই অদ্ভূত গভীর শব্দটা শোনা যাচ্ছিল।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে, গুইঝো বন্যপ্রাণ দপ্তরের ডিরেক্টর রান জিংচেং একটি বিশেষজ্ঞ দলকে নিয়ে ওই রহস্যময় শব্দের উৎস সন্ধান করেন। দেখা যায়, শব্দটি ওইরকমম ভয়ঙ্কর হলেও তা আসলে তিন আঙুল বিশিষ্ট হলুদ পায়ের বাটনকোয়াইল পাখির ডাক। 'দ্য সায়েন্স টাইমস'-এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একটা চড়াই পাখির থেকে আকারে সামান্য বড় হয় এই পাখি। কিন্তু এর গলার আওয়ার অস্বাভাবিক রকমের জোরালো। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, প্রজননের মরসুমে স্ত্রী বাটনকোয়াইল পাখি, পুরুষপাখিদের আকৃষ্ট করার জন্য বারবার ওইরকম গম্ভীর শব্দে ডেকে ওঠে। ১০০ মিটার দূর থেকেও সেই শব্দ গর্জনে মতো শোনা যায়। এই ঘটনা সামনে আসার পরই চিনা সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই সাজানো ভিডিওটি তৈরির জন্য চিনা পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

অর্থাৎ, তিন মিনিটের ওই ভিডিওটি একেবারে মিথ্যা না হলেও সাজানো। ঘটনাটি আংশিক সত্য হলেও শব্দটি ড্রাগন বা তার মতো কোনও রাক্ষুসে প্রাণীর গর্জন নয়। নেহাতই একটি পাাখির ডাক। এর সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির 'পাপ'-এর সাজা পাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।