আমাজনের দহন আন্তর্জাতিক মহলের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আর এবার আমাজন দহনের প্রসঙ্গ উঠে এল জি৭ সামিটেও। এবারের জি৭ সামিটে যোগদানকারী  এবং সদস্য দেশগুলি কার্যত তুলোধনা করতে ছাড়েনি ব্রাজিল সরকারকে। তাঁদের সকলের একটাই দাবি, আমাজনের এই বিপর্যয়ের দিনে কেন আগে থেকে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ব্রাজিল সরকার, তাদের ভুলের খেসারত কেন দেবে সারা বিশ্ব, সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। 

আমাজন দহন নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল ব্রাজিল সরকার, আগুন নিয়ন্ত্রণে নামানো হল সেনাবাহিনী

এই পরিস্থিতি জি৭-ভুক্ত দেশগুলি আমাজনের দহন রুখতে নিল বিশেষ উদ্যোগ। জানানো হয়েছে আমাজন বাঁচাতে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে জি৭-এর সদস্য দেশ।জি৭-এর সদস্য দেশগুলি আমাজনকে বাঁচানোর জন্য যৌথভাবে  উদ্যোগও নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যান্যুয়েল মাঁকর জানিয়েছেন, জি৭ ভুক্ত দেশগুলি যৌথভাবে ২২ মিলিয়ন ডলার খরচ করবে। তবে শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও ব্রাজিলের পাশে দাঁড়াবে তারা। 

'আক্ষরিক অর্থে আমাদের ঘর পুড়ছে' আমাজনে দহন-কে আন্তর্জাতিক সঙ্কট বললেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট

এর আগে'আক্ষরিক অর্থে নিজের ঘর পুড়ছে'- বলে দাবি করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যান্যুয়েল মাঁকর। আয়ারল্যান্ডের তরফে ব্রাজিল সরকারকে কটাক্ষ করে তারা বলেছিল, পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি লঙ্ঘন করেছে ব্রাজিল সরকার। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফেও। বিশ্বের প্রথম সারির সব দেশই কার্যত ব্রাজিলের দক্ষিনপন্থী প্রেসিডেন্ট-এর উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিল। কারণ বারবার তিনি এই দায় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিলেন। যদিও অবশেষে আমাজনের দহন রোধ করতে সেনাবাহিনা মোতায়েন করেন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। 

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস অ্যামাজন! ব্রাজিলের দিনের বেলাই নেমেছে রাত - দেখুন ভিডিও

পুড়ছে আমাজন, চলছে প্রতিবাদ, কাঠগড়ায় দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট

দিনে দিনে কার্যত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে আমাজনের বৃষ্টি অরণ্যে। পৃথিবীর ফুসফুস আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। আগুনের প্রকোপ এতটাই বেশি যে, মহাকাশ থেকেও ধরা পড়েছে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার ছবি। যে আমাজন অরণ্য পৃথিবীতে ২০ শতাংশ অক্সিজেনের যোগান দেয়, সেই অরণ্যের দহনের জেরে একদিকে যেমন প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ পশু-পাখী, সেইসঙ্গে এই বিশ্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়নের দিকে।