গোটা বিশ্বে করোনা সংক্রমণে দিশেহারা। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত। সারা দুনিয়ার এখনও পর্যন্ত মারণ এই ভাইরাসের শিকার হয়েছেন ১ কোটি ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন ৫ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি। গোটা দুনিয়ার মত ইন্দোনেশিয়াতেও মারণ ভাইরাস থাবা বসিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। কোভিড ১৯ রোগে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার তিনশোর বেশি। এই পরিস্থিতিতে সেই দেশের এক মন্ত্রী কোভিড ১৯ সংক্রমণ আটকাতে এক আজব দাবি করলেন। যা নিয়ে দেশটিতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিকর্ক।

ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে তৈরি নেকলেস নাকি করোনা সংক্রমণ রোধে সহায়তা করতে পারে।  ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী সায়াহরুল ইয়াসিন লিম্পো দাবি করেন, ইউক্যালিপটাস এই নেকলেসটি যদি ৩০ মিনিটের জন্য পরে থাকা যায়,  তবে তা করোন ভাইরাসকে বিনাশ করতে অনেকাংশেই সাহায্য করতে পারে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এটি রোল-অনস এবং এতে রয়েছে মিনি ইনহেলার। আগামী অগস্ট থেকে ইন্দোনেশিয়ার কৃষি মন্ত্রক বৃহদ আকারে এর উৎপাদন শুরু করবে।

আরও পড়ুন: দেশি জেমস বন্ড অজিত ডোভাল, হলিউডি সিনেমার গল্পের থেকে কম নয় মোদীর এই মুশকিল আসানের জীবন

কৃষিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই দেশজুড়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়ে অবশ্য কৃষিমন্ত্রক নিজেদের বয়ান বদলেছে।  ইউক্যালিপটাসের এই অলঙ্কারকে করোনারোধী বলে প্রচার না করে বরং ইমিউনিটি বাড়াতে ভেষজ পণ্য হিসাবে তুলে ধরা হবে বলে বিবৃতি দিয়েছে মন্ত্রক। 

আরও পড়ুন: চিনকে হাইভোল্টেজ ঝটকা, ৯০০ কোটির চুক্তি বাতিল করে দিল হিরো সাইকেল

করোনাভাইরাসের এখনও কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করা যায়নি। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এমন দাবির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ইন্দনেশিয়ার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কৃষি মন্ত্রকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে স্থ্যমন্ত্রী তেরওয়ান আগুস পুত্রান্তো বলেন,যাঁরা এই নেকলেস পরবেন তাঁরা আরও আত্মবিশ্বাসী বোধ করতে পারবেন, পাশাপাশি এঁটি তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারবে। এর আগে  স্থ্যমন্ত্রী তেরওয়ান আগুস দাবি করেছিলেন প্রার্থনা করলে করোনা দূর হয়ে যাবে।