গোটা বিশ্বে অতিমারীর রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যে দুনিয়া জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছে ১০ লাখের গণ্ডি। প্রতি মুহুর্তে এই মারণ ভাইরাসে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কোভিড ১৯-এর চোখ রাঙানিতে ইতিমধ্যে লকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশে। বাতিল করতে হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের বৈঠক। উইম্বলডনের মত ঐতিহ্যশালী টেনিস প্রতিযোগিতা। অলিম্পিকের ইতিহাসে এই প্রথম ঘটেছে নজিরবিহনী ঘটনা। এক বছরের জন্য পিছিয়ে দিতে হয়েছে টোকিও অলিম্পিক। স্বভাবতই মন খারাপ জাপানবাসীর। এর মধ্যেই তাঁদের সামনে এসে হাজির হয়েছে আরও একটি দুসংবাদ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে মাউন্ট ফুজিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে স্তব্ধ হয়ে যাবে জাপানের রাজধাবনী।

গোটা বিশ্বের মত জাপানেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বর্তমানে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২,৮০০।  কোভিড ১৯ প্রাণ কেড়েছে ৭৩ জনের। এই পরিস্থিতির মধ্যে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে কী হবে তা নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল জাপান সরকার। আর তাতে যা উঠে এসেছে, তাতে ঘুম ছুটে গিয়েছে প্রশাসনের। 

কেবল সচেতনতা দিয়ে রোখা সম্ভব নয় করোনা, মোদীর পথই অনুসরণ করলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী

স্বামীকে বিরক্ত না করে মেকআপ করুন, লকডাউনে সময় কাটাতে পরামর্শ দিল দেশের সরকার

দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু ধর্মের ওম মন্ত্র জপছেন স্পেনের চিকিৎসকরা, ভাইরাল ভিডিও

জাপানের রাজধানী টোকিও শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাউন্ট ফুজি। এটি যেমন দেশটির সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ, তেমনি আবার আগ্নেয়গিরিও। প্রতিটি জাপানি এটিকে বেশ পবিত্র হিসেবে মনে করে। কিন্তু হঠাৎ যদি এই মাউন্ট ফুজি জীবন্ত হয়ে ওঠে তাহরেল জাপানে কী ধরণের বিপর্যয় নেমে আসবে তা জানতেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কারণে আগ্নেয়গিরিটির ৯২টি জায়গায় কৃত্রিমভাবে অগ্ন্যুৎপাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রকের আধিকারিকরা। 

কৃত্রিম ভাবে মাউন্ট ফুজিকে জীবন্ত করার এই প্রচেষ্টা কিন্তু বেশ ভয় ধরিয়ে দিয়েছে জাপান প্রশাসনের অন্দরে। কারণ মাউন্ট ফুজির অগ্নুৎপাত শুরু হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজধানী টোকিওর উপর। ফুটন্ত লাভা ঢুকে যাবে টোকিওর শহরতলী এলাকাগুলিতে। তবে সবচেয়ে বড় ভয় অগ্নুৎপাতের পর সৃষ্ট ছাইভস্মকে নিয়ে। কারণ অগ্ন্যুপাতের ৩ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরো শহর ঢেকে যেতে পারে এই ছাইয়ের আস্তরণে। মোট ১৭.৩ বিলিয়ন কিউবিক ফুট ছাইয়ের তলায় চাপা পড়ে যেতে পারে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এই শহরটি। 

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এক  ইঞ্চির পাঁচভাগের একভাগ ছাইয়ের কারণে দৃশ্যমানতা একেবারে কমে যাবে। আর এক ইঞ্চি ছাই জমলেই রাস্তায় কোনও গাড়ি চালান সম্ভব হবে না। বন্ধ করে দিতে হবে রেল পরিষেবা। স্তব্ধ হয়ে যাবে বিমানবন্দরও। মিলবে না মোবাইল পরিষেবাও। আর এসবের সঙ্গে তো রয়েইছে প্রাণহানি। এই অবস্থায় মাউন্ট ফুজি থেকে ১৭০৭ সালে শেষবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। সেবার ২৮.২ বিলিয়ন কিউবিক ফুট ভলক্যানিক ছাই তৈরি হয়েছিল এই আগ্নেয়গিরিতে।  তাই এটিকে অতি সক্রিয় বলা না গেলেও কোনওমতেই মাউন্ট ফুজি মৃত নয়। তাই এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করে জাপানে যদি মাউন্ট ফুজি জীবন্ত হয়ে ওঠে তাহলে তার পরিণাম যে আরও কয়েকগুণ ভয়ঙ্কর হবে সেই দিকেই নির্দেশ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।